ঘরওয়াপসি কাঁচরাপাড়ার পাঁচ তৃণমূল কাউন্সিলরের, বিজেপির পক্ষে পুরবোর্ড অক্ষত থাকবে, দাবি মুকুলের

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার হাতছাড়া হওয়া বিভিন্ন পুরসভার দখল নিতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দলছুট তৃণমূল কাউন্সিলরদের ঘরে ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।বৃহস্পতিবার কলকাতায় গিয়ে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৫ দলছুট কাউন্সিলর ফের তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দেয়। মঙ্গলবার হালিশহর পুরসভার পুরপ্রধান অংশুমান রায় সহ ১২ জন দলছুট কাউন্সিলর কলকাতায় বিধানসভায় গিয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দেখা করে ফের বিজেপির মোহ ত্যাগ করে তৃণমূলে ফিরে যান। এবার সেই পথই অনুসরণ করল হালিশহরের পার্শ্ববর্তী কাঁচরাপাড়া পুরসভার ওই ৫ কাউন্সিলর। তবে এই ঘটনায় কোনভাবেই কাঁচরাপাড়া পুরবোর্ড ভাঙবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তিনি কাঁচরাপাড়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, কাঁচরাপাড়া পুরবোর্ড অক্ষত থাকবে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে হালিশহর পুরসভার পুরপ্রধান অংশুমান রায়ের বিরুদ্ধে, এরপর হালিশহর পুরসভারও দখল নেবে বিজেপি।

কাঁচরাপাড়া পুরসভার নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস দলে ফেরত আসা ওই কাউন্সিলরদের নাম হল ২ নং ওয়ার্ডের অলোকানন্দা চৌধুরী, ৭ নং ওয়ার্ডের সঞ্জীব সাহা, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাল্পনা বিশ্বাস, ৮ নং ওয়ার্ডের বানিব্রত মণ্ডল এবং ২৩ নং ওয়ার্ডের আশা কুমারী। কাঁচরাপারা পুরবোর্ডের এই কাউন্সিলররা মাত্র এক মাস আগেই বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের হাত ধরে দিল্লীতে গিয়ে বিজেপিতে নাম লেখান। তবে মাত্র এক মাসেই মোহভঙ্গ হয় কাঁচরাপারা পুরসভার এই ৫ কাউন্সিলরদের। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর কলকাতায় বিধানসভায় গিয়ে পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, সুজিত বসু, নির্মল ঘোষের সাথে দেখা করেন ওই দলছুট কাউন্সিলররা। তাদেরকে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করান ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসুরা। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরত যাওয়ার পর কাঁচরাপারা পুরসভায় কার্যত শুন্যতার সৃষ্টি হয়। ওই কাউন্সিলররা বলেন, বিজেপির সন্ত্রাসের ভয়ে পরিস্থিতির চাপে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস দল ছেড়ে বিজেপিতে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। য

দিও কাঁচরাপারা পুরসভার পুরপ্রধান সুদামা রায় এদিন পুরসভাতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে একাই তার অফিসে মন দিয়ে কাজ করতে দেখা গেল। সুদামা রায় এদিন সাংবাদিকদের বলেন, “আপনাদের কাছে থেকে শুনলাম ৫ জন কাউন্সিলর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চলে গেছেন। তবে এতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার বোর্ড পড়বে না। কাঁচরাপাড়া পুরসভায় বর্তমানে ২৪ টি আসন রয়েছে । তার মধ্যে বিজেপির হাতে এই মুহূর্তে ১৫ টি আসন রয়েছে। ফলে কাঁচরাপারা পুরবোর্ড বিজেপির দখলেই থাকছে।”

এদিকে বুধবার রাতে কাঁচরাপারায় নিজের বাড়িতে ফেরেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সেখানে তিনি বিজপুর বিধানসভার অন্তর্গত হালিশহর ও কাঁচরাপারা পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলরদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করেন। এরপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে মুকুল রায় বলেন, “কাঁচরাপারা পুরসভা অক্ষত ও অটুট আছে। আমাদের দলের কাউন্সিলররা আমার সঙ্গে বৈঠক করলেন এই পুরবোর্ড ভাঙছে না। হালিশহর পুরসভার ক্ষেত্রে আমরা দ্রুতই অনাস্থা প্রস্তাব আনব পুরপ্রধান অংশুমান রায়ের বিরুদ্ধে। অংশুমান এখন বড়বড় কথা বলছে। ওর কোন রাজনৈতিক ইতিহাস নেই, ওকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে দয়া করে পুরপ্রধান করেছিলাম। ও নিজেই বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়েছিল। হালিশহর পুরসভায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ওই পুরসভা বিজেপি দখল নেবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here