রাজশেখর ‘পরশুরাম’এর কলম ছিল এককথায় পরশপাথর৷ আজকের দিনে, ১৬ মার্চ ১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক৷ সাহিত্য় রচনা ছাড়াও রসায়নবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং অভিধান প্রণেতা হিসেবেও তাঁর অবদান আছে৷ ‘পরশুরাম’ ছদ্মনামে তিনি ব্যঙ্গকৌতুক ও বিদ্রুপাত্মক কথাসাহিত্যের জন্য প্রসিদ্ধ। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কৃষ্ণকলি ইত্যাদি’ গল্প গ্রন্থের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত করে। ‘আনন্দীবাঈ ইত্যাদি’ গল্প রচনার জন্য তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বানান সংস্কার সমিতি ও ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিভাষা সংসদের সভাপতিত্বও করেন। ১৯৫৭-৫৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে তাঁকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ‘ডক্টরেট’ উপাধি প্রদান করে। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘জগত্তারিণী’ এবং ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ‘সরোজিনী’ পদক দেয়।

রাজশেখর বসু ১৮৮০ সালের ১৬ই মার্চ বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চন্দ্রশেখর বসু ও লক্ষ্মীমণি দেবীর ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসিত অবিভক্ত ভারতে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হলে তিনি তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিবাহ করেছিলেন মৃণালীনি দেবীকে৷

প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি কেমিস্ট্রি নিয়ে এমএ পাশ করেন৷ ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে রাজশেখর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বি.এল পাশ করে মাত্র তিন দিন আইন ব্যবসা করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞান চর্চায় তাঁর অধিক আগ্রহ থাকায় আইন ব্যবসা ছেড়ে তিনি স্যার আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস’৷ ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে আজীবন রাজশেখর এই কোম্পানীর সঙ্গেই নিযুক্ত ছিলেন৷

রাজশেখরের সাহিত্য জীবন শুরু হয় ১৯২০-র দশকে। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ‘পরশুরাম’ ছদ্মনামে তিনি একটি মাসিক পত্রিকায় ‘শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’ নামে একটি ব্যঙ্গ রচনা প্রকাশ করেন। গল্পরচনা ছাড়াও স্বনামে প্রকাশিত কালিদাসের মেঘদূত, বাল্মীকি রামায়ণ (সারানুবাদ), কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসকৃত মহাভারত (সারানুবাদ), শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা ইত্যাদি ধ্রুপদি ভারতীয় সাহিত্যের অনুবাদগ্রন্থগুলিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় রাজশেখর বসু বিরচিত বাংলা অভিধান চলন্তিকা। গড্ডালিকা, কজ্জলী, হনুমানের স্বপ্ন সহ তিনি মোট ২১টি গ্রন্থ প্রকাশ করেন৷ তাঁর লেখা ছোটগল্প ‘বিরিঞ্চিবাবা’ অবলম্বনে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় ‘মহাপুরুষ’ ছবিটি নির্মাণ করেন৷ ১৯৬০ সালের ২৭ এপ্রিল স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস করেন তিনি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here