national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অবশেষে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হল। বিধানসভা অধিবেশনে তুমুল হইচইয়ের জেরে আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হল আস্থাভোট প্রক্রিয়া। পাশাপাশি আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিধানসভা অধিবেশন মুলতুবি করে দিলেন স্পিকার। ঘটনার সময়ে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাল লালাজি ট্যান্ডন।

সোমবার বিধানসভা অধিবেশনে স্পিকার ও রাজ্যপালের উপস্থিতিতে আস্থাভোটের জন্য আবেদন জানান। বলেন, ‘সংবিধানের নিয়ম প্রত্যেকের মেনে চলা উচিত যাতে মধ্যপ্রদেশের মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে।’ এরপরই সরকার আস্থাভোটে নামার জন্য বলেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই তুমুল হট্টগোল শুরু করেন কংগ্রেসের বিধায়করা। পরিস্থিতি লাগাম ছাড়া হতেই বিধানসভা ছাড়েন রাজ্যপাল। ঠিক তারপরই আস্থাভোট প্রক্রিয়া বাতিলের পাশাপাশি আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি করা হয় মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা।

এদিকে এই ঘটনায় যারপরনাই রুষ্ট বিজেপি। তাদের দাবি, মধ্যপ্রদেশের দীর্ঘ দিন ধরে কংগ্রেস সরকার চালালেও বর্তমানে ২২ জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন কংগ্রেস থেকে। ফলে এখন কংগ্রেস সংখ্যালঘু। আস্থাভোট করাটা একান্ত দরকার। অন্যদিকে, সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ রাজ্যপালের কাছে চিঠি লিখে জানান, তাদের একাধিক বিধায়ককে কর্ণাটকে পুলিশ প্রহরায় আটকে রেখেছে বিজেপি। এতজন বিধায়কের অনুপস্থিতিতে কখনই সম্ভব নয় আস্থাভোট। যদিও তার সে দাবি খারিজ করে বিধানসভায় বসেছিল আস্থা ভোটের আসর। তবে শেষ মুহূর্তে সেই তুমুল হট্টগোলের জেরে ভোট বাতিল করে দিলেন স্পিকার।

প্রসঙ্গত, ২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় মোট বিধায়ক ২২৮ জন। সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৫ জন বিধায়কের সমর্থন। চার নির্দল বিধায়ক, দুই বহুজন সমাজ পার্টি-র বিধায়ক এবং এক জন সমাজবাদী পার্টির বিধায়কের সমর্থনে এত দিন সেখানে ১২১টি আসন ছিল কংগ্রেসের দখলে। এদিকে ২২ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ার সংখ্যা হয়েছে ৯৯। নির্দল, বসপা এবং সপার তরফে সমর্থন উঠে গেলে কংগ্রেসের পক্ষে থাকা বিধায়কের সংখ্যা হবে ৯১। এ ক্ষেত্রে বিধানসভার ম্যাজিক সংখ্যা হবে ১০৪। বিজেপির কাছে যেহেতু ১০৭ জন বিধায়ক রয়েছে, তাই আস্থাভোট হলে তাদের জয়লাভে কোনও বাধা থাকবে না। এহেন সময়েই এই আস্থাভোট বাতিলের জেরে কিছুটা সময় পেয়ে গেলেন কমলনাথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here