ডেস্ক: গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কর্ণাটকে ফের কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছে কংগ্রেস-জেডিএস জোট। অন্যদিকে, ৪৮ ঘণ্টা আগেই শপথ নেওয়া বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পার দাবি, বিরোধীদের কমপক্ষে ১০ বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করবেন। সব মিলিয়ে কর্ণাটকের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ নাটক এখনও থামার নাম নেয়নি। আজ বিকেল ৪টের সময়ই অবশ্য সব নাটকের পর্দা উঠে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের মামলার শুনানির প্রেক্ষিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট পরিচালনা করবেন প্রোটেম স্পিকার বোপ্পাইয়াই। একই সঙ্গে ফ্লোর টেস্টের সরাসরি সম্প্রচারও করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা। বোপ্পাইয়া অতীতেও একাধিকবার বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কারণে, ফ্লোর টেস্টের আগে বিজেপি যে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে আন্দাজ করেই নেওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু দুই পক্ষের এই অগ্নিপরীক্ষায় কে এগিয়ে কে পিছিয়ে এই আগাম বিচার করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কিছুটা হলেও অ্যাডভান্টেজেই রয়েছে। কারণ, জেডিএসের বেশ কয়েকজন বিধায়ক নাকি নির্বাচনের ফলের পর এই জোট নিয়ে নাখুশ রয়েছেন। এমনটাই জানা গিয়েছে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। যদিও প্রাক্তন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা দুই দলের এই জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রমাণ করার বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু রাজ্যপালের ১৫ দিনের সময়সীমা ২ দিনে কমে যাওয়ায় ক্রস ভোটিং-এর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কম হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে গোপন ব্যালটে ভোট হবে না এমনটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে। ফলে ফ্লোর টেস্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বিজেপিকেও যে বেগ পেতে হবে তা অনেকটাই অবশ্যম্ভাবী।

অন্যদিকে, ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে ইতিপূর্বে কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে বহু তাবড় তাবড় নেতামন্ত্রীদের ব্যবহার করে তাদের পরে ছুঁড়ে ফেলেছে। কংগ্রেসের এই ইতিহাস জেডিএস নেতাদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশাবাদী কর্ণাটক বিজেপির একাংশ। জেডিএস প্রধান দেবগৌড়াও একসময় কংগ্রেসের এই ব্যবহারিক রণনীতির শিকার হয়েছিলেন। ফলে কর্ণাটকের ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে অনেকটা ৫০-৫০ অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। ১১২টি আসনের সমর্থন তাই বিজেপি পকেটে যাবে নাকি কংগ্রেসের, তা দেখার জন্য আজ বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে গোটা দেশকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here