ডেস্ক: রাশিয়ায় সদ্যই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপের আসর, আর ভারতের ‘ফুটবল রাজধানী’ কলকাতার ময়দায়নে ফুটবল মরশুম একেবারে শুরুর মুখেই। আর এমন একটা সময়েই সাত সমুদ্র পাড়ের ইংল্যান্ডের রাজধানী শহর লন্ডনে কিন্তু রীতিমত ফুটবলকে ঘিরেই জমে উঠল ঘটি-বাঙাল আর ইলিশ-চিংড়ির চিরন্তন লড়াই। কারণ, ফুটবল মানেই বাঙালী, আর পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই বাঙালীরা থাকুন না কেন ফুটবল নিয়ে তাঁদের আবেগ কিন্তু চোখে পড়ার মতই। আর এ ক্ষেত্রেও তাঁর অন্যথা হয়নি কোন। রীতিমত থিম সং রচনা (নির্মল নাগ)করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভারীশিল্প প্রতিমন্ত্রী এবং সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয়র গাওয়া সেই থিম সং-এর মাধমেই সূচনা করা হয় এই ফুটবল কার্নিভালের। উল্লেখ্য, এ থিম সঙের সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন শিল্পী সঞ্জয় বোস।

লন্ডনের ব্রিটেন-ইন্ডিয়ান ফ্যান অ্যাসোসিয়েশন এবং ‘স্লাও টাউন ফুটবল ক্লাবের’ উদ্যোগে আজ রবিবারই আয়োজন করা হয়েছে এক অভিনব ফুটবল কার্নিভ্যালের। ব্রিটেনের লন্ডনে বসবাসকারী প্রায় ২০০০ ফুটবল প্রেমী বাঙালী অংশগ্রহণ করেন এই কার্নিভালে। এই কার্নিভালের উদ্যোক্তাদের একজন জানান, ‘কলকাতা থেকে সহস্র মাইল দূরে এই বিলেতে থেকে আমরা বরাবরই বঞ্চিত থেকে যাই চিরকালীন ইস্ট-মোহন, ঘটি-বাঙাল আর ইলিশ-চিংড়ির লড়াইয়ের মৌতাত এবং উত্তেজনা থেকে। তাই সেই উত্তেজনাকে ফিরে পেতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’ তিনি আরও জানান, এই কার্নিভালে মূলতঃ দু’টি ভাবে বিভক্ত করা হয়েছে অংশগ্রহনকারী ফুটবলারদের, মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল, অর্থাৎ কিনা ঘটি এবং বাঙাল। তবে তাদের মধ্যেও থাকছে তিনটি করে দল, মোহনবাগান বিভাগের তিনিটি দলের নামকরণ করা হয়েছে কিংবদন্তি খেলোয়াড় ‘শৈলেন মান্না, শিবদাস ভাদুড়ি এবং সুদীপ চ্যাটার্জির নামে এবং অপর দিকে ইস্টবেঙ্গল শিবিরের টিম তিনটি করা হয়েছে স্বর্গীয় ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, কিংবদন্তি আহমেদ খান এবং কলকাতা ফুটবলের মারাদোনা কৃশানু দে’-র নামেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লাল-হলুদের পক্ষে কিন্তু মাঠে নামেন একসময় কলকাতা ময়দান কাঁপানো ‘কালোচিতা’ অর্থাৎ কিনা চিমা ওকোরি। ম্যাচগুলির প্রতিটি অর্ধ ১০ মিনিট করে ধার্য্ করা হয়, তাই ২০ মিনিটের প্রত্যেকটি ম্যাচ লিগ পদ্ধতিতে আয়োজন করে আজই ইতি টানা হবে টুর্নামেন্টের।

তবে এই কার্নিভাল বা ফুটবল উৎসবের কিন্তু এখানেই শেষ নয়, উৎসবের সাথেই উপরি পাওনা হিসেবে থাকছে বিশেষ ফুড ফেস্টিভ্যালও। তবে যে সে খানার কিন্তু এখানে ঠাঁই নেই। কারণ এ ফুড ফেস্টিভ্যালের মূল আকর্ষণ কিন্তু ইলিশ এবং চিংড়িরই হাজারো পদ। তাই ফের আর ও একবার প্রমাণিত হল যে কলকাতাই হোক বা সাত সাগর পাড়ের লন্ডন, বাঙালী যেখানেই থাকবে সেখানেই স্বমহিমায় থাকবে বাঙালীর চিরন্তন ঘটি-বাঙাল, ইলিশ-চিংড়ির লড়াই আর তারই সাথে অবশ্যই স্বমহিমায় থাকবে ফুটবলও। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here