news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: এপ্রিল যেন ইন্দ্রপতনের মাস। গতকাল চলে গিয়েছেন ইরফান খান। আজ সকালে প্রয়াত হয়েছেন ঋষি কাপুর। আর বিকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম তারকা চুনী গোস্বামী। বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটায় দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন চুনী। শেষ কয়েক মাস ধরেই তাঁর সুগার, প্রস্টেটের সঙ্গে স্নায়ুর সমস্যাও হচ্ছিল।

স্বাভাবিক ভাবেই চুনী গোস্বামীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কলকাতা ময়দান। মোহনবাগান ক্লাবের অর্থ সচিব দেবাশীষ দত্ত মহানগর ২৪X৭ -কে জানান, ‘চুনীদার চলে যাওয়াটা ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন। উনি যে কেবল দুর্দান্ত ফুটবলার ছিলেন তা তো নয়। অসাধারণ ক্রিকেটও খেলতেন। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে মোহনবাগান মানেই চুনী গোস্বামী আর চুনী গোস্বামী মানেই মোহনবাগান। কিন্তু ওনার ক্লাবের সদস্যপদ ছিল না। আমরা গত বছর নির্বাচনে জেতার পর ওনাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেছিলাম। ওনাকে ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্টও করা হয়। কিন্তু উনি যে সময় গেলেন, সেটা খুবই খারাপ সময়। এই ভাবে চলে যাওয়াটা ওনার প্রাপ্য না। চুনীদার মতো মানুষের আরও বড় ভাবে বিদায় প্রাপ্য। কিন্তু কিছু করার নেই। এই সময় ওনাকে ক্লাবেও আনা সম্ভব হল না।’

প্রাক্তন ফুটবলার কৃষ্ণেন্দু রায় জানান, ‘সংবাদটা শোনার পর যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না। চুনীদা আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। সবাইকে খুব ভালবাসতেন। সালটা ঠিক মনে নেই, তখন আমি মোহনবাগানে খেলি। চুনীদা ছিলেন সেক্রেটারি খুব সম্ভবত। অনুশীলনের সময় রোজ আমাদের সঙ্গে দেখা করতেন। টিপস দিতেন। সবাইকে খুব সহজেই আপন করে নিতেন। জানি না এখন কী হচ্ছে। শিল্পজগৎ, ক্রীড়াজগৎ শ্রেষ্ঠদের হারিয়ে ফেলছে। খুব খারাপ লাগছে এই সময় আমি ওনাকে শেষবারের মতো দেখতে যেতে পারব না। বৌদি, ওনার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষ্ণেন্দুবাবু।

চুনী গোস্বামীর এই প্রয়াণ যেন মেনে নিতে পারছেন না বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যও। ‘আমাদের সবার কাছেই চুনীদার চলে যাওয়াটা খুব বড় একটা দুঃসংবাদ। ওনার চলে যাওয়াটা ভারতীয় ফুটবলের কাছে খুব বড় ক্ষতি। উনি আইএফএ, এআইএফএফকে অনেক সময় অনেক পরামর্শ দিতেন। ভারতীয় ফুটবল আজ অভিভাবকহীন হয়ে গেল। আর সময়টাও এত খারাপ যে ওনার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াব, সেই উপায়ও নেই। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি’, বলেন শোকবিহ্বল বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here