মহানগর ওয়েবডেস্ক: কোভিড–১৯ সংক্রমণ বাঁচাতে গিয়ে ৩৭ গোল খেল জার্মানির একটি ফুটবল দল। সারা খেলায় যাতে যথাযথ ভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সেদিকে যথেষ্ট খেয়াল রেখে পরাজিত দল মাত্র সাত জন খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছিল। ‘গোল হয় হোক করোনা যেন না হয়’ এই নীতি আঁকড়ে অতিমারীর সময় ক্রীড়া জগতে প্রায় ইতিহাস রচনা করে দিল জার্মান লিগের একাদশতম স্তরে খেলা একটি ফুটবল ক্লাব।

এস জি রিপডর্ফ জার্মানির একটি অপেশাদার ফুটবল দল। স্থানীয় লিগে তাদের খেলা পড়েছিল এস ভি হোল্ডেনস্টেড দলের সঙ্গে। কিন্তু সমস্যা হল হোল্ডেনস্টেড দল আগের ম্যাচ যাদের সঙ্গে খেলেছে সেই দলের একজন খেলোয়াড়ের কোভিড–১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। সেই দলের সঙ্গে খেলতে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই হোল্ডেনস্টেড–এর খেলোয়াড়রা সেই খেলোয়াড়দের সংস্পর্শে এসেছিল। এস জি রিপডর্ফ দলের এখানেই সমস্যা তৈরি হয়।

বিষয়টিকে বিশদ ভাবে ব্যাখ্যা করে ক্লাব প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক রিসট্যো বলেন, প্রতিপক্ষের সমস্ত খেলোয়াড়ের কোভিড পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও যেহেতু সংক্রামিত খেলোয়াড়ের সংস্পর্শে আসার পর নিয়মমাফিক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকেনি সেহেতু প্রেসিডেন্ট তার দলের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সাত জন খেলোয়াড় মাঠে নামান এবং কঠোর ভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

এস জি রিপডর্ফ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে জানতে পেরে হোল্ডেনস্টেড তাদের দ্বিতীয় দলকে মাঠে নামায়। বিষয়টি নিয়ে ইএসপিএন কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিক রিসট্যো বলেন, ‘’হোল্ডেনস্টেড খেলোয়াড়রা বিষয়টা বুঝতে পারছে না। কিন্তু আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে পারি না। আমাদের খেলোয়াড়রা সরাসরি প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়নি এবং হোল্ডেনস্টেড খেলোয়াড়দের সঙ্গে দু’মিটার দূরত্ব বজায় রেখে খেলেছে।‘’

এই অভিনব নিয়ম রক্ষার খেলায় হোল্ডেনস্টেড প্রতি দু’–তিন মিনিট অন্তর একটা করে গোল করে গিয়েছে। খেলার শুরুতে মাঠে নেমে রিপডর্ফের খেলোয়াড় বল হোল্ডেনস্টেডের খেলোয়াড়দের পায়ে তুলে দিয়ে সাইড লাইনে সরে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে যথারীতি সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here