রোগী পরিষেবার স্বার্থে হাসপাতালে সঠিক পরিকাঠামোর দাবিতে আন্দোলনে জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি তুলে এবার আন্দোলনে নামলেন জুনিয়র ডাক্তাররাই। সম্প্রতি এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনার জেরে টানা এক সপ্তাহ ধরে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি চলেছে। পরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু সরকার হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামোর ব্যাপক ঘাটতি আছে। সেইসব পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরেই বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুণ্ডুর কাছে স্মারকলিপি দিল জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম।

জুনিয়ার ডাক্তারদের দাবি, আগের আন্দোলনের প্রভাবে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক আগের তুলনায় কিছুটা হলেও ভাল হয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা এর স্থায়িত্ব বেশিদিন নয়। হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান উন্নত না করলে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক আবার খারাপ হতে বাধ্য। দীর্ঘ ১৫ বছর মেডিক‍্যাল কলেজের ঘোষণা হলেও এখনও মেদিণীপুর মেডিক্যালে জেলাস্তরের সাধারণ মানের হাসপাতালের পরিষেবা প্রদান করা হয়। ফোরামের অভিযোগ, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে একটি টার্সিয়ারি কেয়ার সেন্টার বা সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। যারফলে এক মেডিক্যাল কলেজ থেকে আরেক মেডিক্যাল কলেজে রোগী স্থানান্তরিত করতে হয়। নেই কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, নেফ্রোলজি বিভাগ, ট্রমা-কেয়ার ইউনিটও। চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং যন্ত্রের অভাবও যথেষ্ট। আবার অত্যাধুনিক যন্ত্রের অভাবে ইকোকার্ডিওগ্রাম, এন্ডোস্কোপি, কোলোনোস্কোপি, গাইনী ল্যাপারোস্কোপি সার্জারি, কল্পোস্কোপি, বেরা প্রভৃতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো যায় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেন্ডার ডাকার নাম করে বিষয়গুলি ঝুলিয়ে রেখেছে, অথচ পরিষেবা কবে শুরু হবে কেউ জানে না। অসহায় রোগীর পরিজনদের হয় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে কিম্বা ঐ সমস্ত রিপোর্ট বেসরকারি প্রাইভেট ল্যাব থেকে করিয়ে আনা হচ্ছে। একটি মেডিক্যাল কলেজের স্ত্রীরোগ চিকিৎসা বিভাগে ল্যাপ বা মাইক্রো সার্জারির সুবিধা নেই এটা ভাবাই যায় না। নাক-কান-গলা বিভাগ থেকে কেবল ‘বেরা’ পরীক্ষা করানোর জন্য কলকাতা স্থানান্তরিত করতে হয়।

কিছু বিশেষ রক্ত-পরীক্ষার পরিষেবাও হাসপাতালে অমিল। যা ২৪ ঘন্টা পাওয়া উচিত ছিল। হাসপাতালে নার্স, জেনারেল ডিউটি স্বাস্থ্যকর্মী, প্যারা মেডিক্যাল স্টাফের শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। হাসপাতালে রোগীকে ট্রলি ঠেলে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে রোগীর পরিচর্যা সবই রোগীর আত্মীয়  স্বজনদের করতে হয়। অনুমোদিত পদের প্রায় ৫০-৮৫ শতাংশ খালি পড়ে আছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একাংশ এ ব্যপারে একেবারেই উদাসীন। এমন সমস্যা গুলির দ্রুত সমাধান দাবি করেছে জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম। তাদের দাবি মেনে নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুন্ডু বলেন,”এগুলি সত্যই সমস্যা৷ আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ চেয়ে উর্ধকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছ৷ “

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here