kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ১০৮ বছরের প্রাচীন অন্নপূর্ণা পুজোয় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কোপে মন্দির ফাঁকা। মন্দিরে পুরোহিত ছাড়া নেই কেউ। প্রশাসনের নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ পুজোয় পড়ল ভাটা। আক্ষেপ পুজো উদ্যোক্তা থেকে দর্শনার্থী সকলের। প্রতি বছরের মতো এবছরেও পুরুলিয়ার ঝালদা সুবর্ণ বণিক সমিতির মা অন্নপূর্ণা পুজো হওয়ার কথা ছিল। সেই পুজোয় এবার পড়ল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কোপ। মন্দিরে পুরোহিত ছাড়া ছিল না নেই কোনও দর্শনার্থী। চারদিন ধরে ধুমধাম করে হওয়া ১০৮ বছরের প্রাচীন অন্নপূর্ণা পুজোয় তৈরি হল ইতিহাস। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী চলছে লকডাউন। জরুরি কারণ ছাড়া বাইরে বের হতে পারছেন না কেউ। নিষেধ জমায়েত। মন্দিরের পুজো পার্বণ, ধৰ্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ।

ঝালদা শহরের সুবর্ণ বনিক সম্প্রদায়ের অন্নপূর্ণা পুজো ধুমধাম করে হয়ে আসছে। এই পুজো দেখতে ঝালদা এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্তের গ্রাম এমনকী পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও বহু মানুষ এসে ভিড় জমাতেন। কিন্তু এবারেই প্রথম সুনসান মন্দিরে হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে কোনও রকমে সারা হল পুজো।

কমিটির তরফে নরেন চন্দ্র জানান, ১০৮ বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো। চারদিন সাড়ম্বরে পালিত হতো। কিন্তু এবছর করোনা ভাইরাসের জন্য সরকারের বিধিনিষেধ মানতেই হচ্ছে। সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সকলের হয়ে পুজো দেবেন পুরোহিত। প্রসাদ বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। আর এ বছর আমরা পুজো দিচ্ছি করোনার পরাজয় আর বিশ্ব শান্তির জন্য।

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিযেছেন পুরপ্রধান প্রদীপ কর্মকার। তিনি জানান, ১০৮ বছরের ইতিহাস পুজোর। এই পুজো উপলক্ষে দূর-দূরান্তের কত আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে আসতেন। চারদিন ধরে চলত পুজো। শেষে খিচুড়ি মহাভোগ বিতরণ। কিন্তু এবছর করোনা ঠেকাতে রাজ্য সরকারের নিয়ম মেনে কমিটি যে ভাবে পুজো করছে, তারজন্য তাদের ধন্যবাদ। সব মিলিয়ে শতাব্দী পার করা অন্নপূর্ণা পুজোয় প্রথম দেখা গেল এক অনাড়ম্বর চিত্র। তবে বাড়িতে থেকেই সকলেই  মনে মনে মা অন্নপূর্ণাকে জানালেন, এবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে ধ্বংস করে বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে দাও মা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here