science news
Highlights

  • পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চারের অন্যতম কারণ বাতাসে অক্সিজেনের উপস্থিতি
  • প্রথমবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রাণীর খোঁজ পেলেন, যে প্রশ্বাসের সময় অক্সিজেন গ্রহণ করে না
  • ওই প্যারাসাইটের নাম হ্যানেগুয়া সালমিনিকোলা

 

মহানগর ওয়েবডেস্ক: পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চারের অন্যতম কারণ বাতাসে অক্সিজেনের উপস্থিতি। এতদিন পর্যন্ত এই ধারণাই ছিল বিজ্ঞানীদের। কিন্তু সম্প্রতি সেই বিশ্বাসও নাড়িয়ে দিয়েছে একটি প্রাণী। ইতিহাসে প্রথমবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রাণীর খোঁজ পেলেন, যে প্রশ্বাসের সময় অক্সিজেন গ্রহণ করে না। অক্সিজেন ছাড়াই দিব্যি বহাল তবিয়তে থাকতে পারে ওই প্রাণী। আর এতেই এক লহমায় টালমাটাল অবস্থা বিজ্ঞানীদের এতকালের বিশ্বাসের।

সম্প্রতি তেল আভিভ ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী এমন একটি প্যারাসাইটের খোঁজ পেয়েছেন, যার বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না। তাঁদের সেই আবিষ্কারের বিস্তারিত রিপোর্ট একটি জার্নালে প্রকাশ পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই প্যারাসাইটের নাম হ্যানেগুয়া সালমিনিকোলা (Henneguya salminicola)। প্যারাসাইটটির দেহে ১০টিরও কম কোষ। স্যামন মাছের পেশিতে এই প্যারাসাইট বাস করে। নিজেদের শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য এদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না।

বিজ্ঞানী দলের প্রধান প্রফেসর ডরথি হুচো জানান, ‘এতদিন ধরে আমাদের ধারণা ছিল প্রতিটি প্রাণীই বায়ুর সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। কিন্তু এখন প্রমাণ হল আদতে তা নয়। আমাদের এই আবিষ্কার দেখিয়ে দিয়েছে অভিযোজনের অভিমুখ যে কোনও দিকে যেতে পারে। প্রাণীদের শরীরে শক্তির উৎপাদনের জন্য বায়বীয় শ্বাসকার্য খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু এখন আমরা দেখছি কোনও প্রাণী প্রয়োজনে সেই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।’

কিন্তু যদি ওই প্যারাসাইট অক্সিজেন গ্রহণ না করে, তাহলে কী ভাবে তা শক্তি উৎপাদন করে। ‘সেই উত্তর আমরা এখনও পাইনি। হয়তো যে মাছের দেহে এই প্যারাসাইট বাস করে, সেই মাছের কোষ থেকেই এরা শক্তি সংগ্রহ করে। আবার এও হতে পারে যে এদের রেস্পিরেটরি প্রক্রিয়া একেবারেই আলাদা। এরকম অ্যানারোবিক নন-অ্যানিম্যাল অর্গানিজমের মধ্যে দেখা যায়। অভিযোজনের সময় এইসব অর্গানিজম ক্রমশ জটিল হয়ে যায়। কিন্তু হ্যানেগুয়া সালমিনিকোলা একটা প্রাণী। তা সত্ত্বেও এর মধ্যে নন-অ্যানিম্যাল অর্গানিজমের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান’, বলেন ডরথি। .

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here