নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবুজ শহরকে প্রায় ধূসরে পরিণত করেছে সুপার সাইক্লোন আমফান। এই অবস্থায় শহরের সবুজায়ন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তৈরি হল বিশেষ কমিটি। শনিবার কলকাতা পুরসভায় বনদফতরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক সারেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। সেই বৈঠকেই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কলকাতার সবুজায়ন ফেরানোর জন্য চাওয়া হয় বনদফতরের সাহায্য। প্রশাসকের সঙ্গে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও শহরের পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

এদিনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভা, পরিবেশ বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘কলকাতা সবুজায়নের সুনির্দিষ্ট নীতি প্রয়োজন। সবুজায়নে বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 3-4 দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে এই কমিটি। রিপোর্টের ভিত্তিতে বনদফতরের থেকে চারা কেনা হবে। শহরের সবুজ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা বনদফতরের সাহায্য চেয়েছি।’

এবিষয়ে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘শহরের সবুজায়ন রক্ষার কথা মাথায় রেখেই ঝড়ের আগের থেকেই এক লক্ষ পুরনো গাছ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। নিম দেবদারুর মত গাছ এক্ষেত্রে মজুত রাখা হয়েছিল। এছাড়াও তিন বছরের বয়সের মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার গাছ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এই গাছগুলির উচ্চতা ১৮ ফুটের মধ্যে। অন্যদিকে সাড়ে চার হাজার গাছ মজুদ করে রাখা হয়েছিল, যেগুলির উচ্চতা কুড়ি থেকে ত্রিশ ফুটের মধ্যে। এই সমস্ত গাছগুলি শহরে পুনঃপ্রতিস্থাপন করা হবে।’

তবে কোথায় কোন গাছ লাগানো হবে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তিন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি, এমনটাই জানিয়েছেন প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘৫ তারিখ পরিবেশ দিবস। ঐদিন থেকে আমরা বৃক্ষরোপণ শুরু করব। যেখানে গাছ ছিল সেখানে গাছই লাগাতে হবে। তবে সেটা প্ল্যান করে করতে হবে। কোথায় কী গাছ লাগানো যায়। রাস্তার ধারে কী ধরনের গাছ লাগালে তা ভেঙে পড়বে না। কোন গাছ থেকে ভালো অক্সিজেন পাওয়া যায়, সব বিষয়ে জানার জন্য কমিটি তৈরি। জায়গা অনুযায়ী বিশেষ বিশেষ গাছ লাগাতে হবে।’

প্রসঙ্গত, সুপার সাইক্লোন আমফান যে শহরের সবুজায়নকে এক প্রকার ধ্বংস করে দিয়েছে সে কথা কিছুদিন আগেই স্বীকার করে নিয়েছেন প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। প্রথমে পাঁচ হাজার বললেও, পরে তা শুধরে নিয়ে প্রশাসক জানিয়ে দেন, সাড়ে পাঁচ হাজার নয় বরং শহর জুড়ে সাড়ে ১৫ হাজার গাছ পড়েছে। অন্যদিকে এদিন বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় এর ফলে সবুজায়নের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার হেক্টর। রাজ্যের নিরিখে এই ক্ষতির পরিমাণ ১৬ লাখ। যার ফলে ঘাটতি হচ্ছে ১১ কোটি কার্বন ইউনিটের। যা পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই অবস্থায় একটি গাছের বদলে দশটি গাছ লাগালেই তবে এই ক্ষতিপূরণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here