কারা পুলিশ নিয়োগের পরীক্ষায় আটক ভুয়ো পরীক্ষার্থী, তীব্র চাঞ্চল্য মালদায়

0
616
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইংরেজবাজার: রাজ্যে কারা পুলিস নিয়োগ পরীক্ষায় ৪জন ভুয়ো পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করল মালদা জেলা পুলিশ। রবিবার ছিল পশ্চিমবঙ্গ কারা পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বসার আগে অ্যাডমিটে গড়মিল থাকায় পুলিশ প্রথমে একজনকে গ্রেফতার করে। পরে তার সুত্র ধরে বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে তিনজন ভিন রাজ্যের বাসিন্দা ও একজন মালদার বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদা শহরের সাহাপুর হাইস্কুলে এবং ইংরেজবাজারের বাদলমনি হাইস্কুলে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মালদা ও ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া চার ভুয়ো পরীক্ষার্থীরা হল চন্দ্র প্রকাশ(২৬), শচীন কুমার সিং(২৫), জগদীশ সরকার(৩১) এবং সিন্টু কুমার সিংহ(২৫)। এদের মধ্যে চন্দ্রের বাড়ি বিহারের হাতিয়াড়া ঔরঙ্গাবাদ এলাকায়। শচীনের বাড়ি বিহারের ছাপড়ায়, জগদীশের বাড়ি মালদা জেলার নালাগোলা এলাকায় এবং সিন্টুর বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে। প্রথম ৩জনকে সাহাপুর হাইস্কুল থেকে ও শেষের জনকে ইংরেজবাজার বাদলমনি স্কুল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গিয়েছে, বাদলমনি স্কুলে অসিত মন্ডলের হয়ে পরীক্ষায় বসেছিল সিন্টু। আবার চন্দ্র পরীক্ষায় বসেছিল সাহাপুর হাইস্কুলে। পরীক্ষা শুরুর আগে অ্যাডমিট চেকিংয়ের সময় দেখা যায় অ্যাডমিটের সঙ্গে চন্দ্রের কোনও মিলই নেই। এর ওপর যথেষ্ট গরমিল রয়েছে অ্যাডমঅটেও। তার জেরেই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা। এরপর বাকি দুইজনের নাম উঠে আসে। জেলা জুড়ে শুরু হয় ওই দুই জনের খোঁজ। রাত্রিবেলা পুলিশ গোপন সুত্রে খবর পেয়ে মালদা টাউন স্টেশন থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে। এই প্রতারণা চক্রের মূল পান্ডা চন্দ্র প্রকাশ জানায়, তারা রাজ্যের যে কোনও সরকারি পরীক্ষা শুরু হলে এজেন্ট মারফত পরীক্ষার্থীদের খুঁজে বেড়ায়। এক একজন পরীক্ষার্থী পিছু ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। যার বিনিময়ে ওই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেবে এজেন্টদের লোক। সেই কারণে বিহারের আরেক বাসিন্দা শচীন কুমার সিংকে এজেন্ট করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কাজ করে আসছে। সেইমতো পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই এজেন্ট শচীন কুমার সিং মালদায় ওই সমস্ত পরীক্ষার্থীদের খোঁজ শুরু করে।

সেইমতো পরিচয় হয় নালাগোলা বাসিন্দা জগদীশ সরকারের সঙ্গে। সেখানকার বেশকিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এদিন তারা মালদার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে কোন সরকারী চাকুরীর পরীক্ষায় এই ধরনের ভুয়ো পরীক্ষার্থীরা স্বক্রিয় হয়ে উঠছে। এই ধরনের ভুয়া পরীক্ষার্থী গ্রেপ্তার হওয়ায় মাথাব্যথার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসনের। জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, ‘ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এদের সঙ্গে আর কারা এদিনের পরীক্ষায় বসেছিল। পাশাপাশি এদের মূল পান্ডা কে আর তারা আর কোন কোন পরীক্ষায় বসেছিল সমস্তটাই তদন্ত করছি আমরা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here