ডেস্ক: সেই ১৯৯৮ সালে প্রথম এবং শেষবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফরাসিরা৷ সেন্ট ডেনিসের সেই রূপকথার রাতে ব্রাজিলের নক্ষত্রখচিত স্বপ্নের দলের স্বপ্নভঙ্গ করেছিলেন জিনেদিন জিদান৷ তারপর থেকে বিশ্বকাপের আসরে শুধুই হতাশাসঙ্গী হয়েছে ফ্রান্সের৷ সেই রাতে যখন দিদিয়ের দেঁশ বিশ্বকাপে চুম্বন করেছিলেন, তখনও পৃথিবীর আলো দেখেনি সে৷ জিদান-অঁরিদের ইতিহাস তৈরির মাস পাঁচেক পর ক্যামেরুনিয়া-আজেলেরিয়ান পরিবারে জন্ম হয় এক সন্তানের৷ আজ দুই দশক পেরিয়ে সেই ‘শিশু’টিই ফ্রান্সকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের৷ ২০ বছর পর ফুটবল-দুনিয়ায় আজ যে কিলিয়ান এমবাপ্পে নামে পরিচিত৷

মূলত, এমবাপের হাত ধরেই স্তালিনের দুর্গে ফুটবল বিশ্বযুদ্ধের আসরে ফের একবার ‘ফরাসি বিপ্লব’দেখছেন সকলে৷ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেসি-মাসচেরানো-ডি’মারিয়া সমৃদ্ধ আর্জেন্তিনাকে স্রেফ গতির ঝড়ে খড়কুটোর মত উড়িয়ে দিয়েছে দিদিয়ের দেঁশ-এর তরতাজা শিষ্যরা৷ যার মূল রূপকার ছিলেন এমবাপে৷ প্রযুক্তি বলছে, ওই ম্যাচে ঘন্টায় ৩৭ কিলোমিটার বেগে বল পায়ে দৌড়চ্ছিলেন এমবাপে৷ আজও কী উঠতে চলেছে সেই ঝড়? যে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে লাতিন আমেরিকার আরেক ‘জায়ান্ট’ উরুগুয়ে? নাকি রং রাশিয়ায় এদিন রচিত হবে সুয়ারেজদের জয়গান?

তবে এদিন কাজটা বেশ কঠিন, তা বুঝতে পারছে ফরাসিরা৷ আর্জেন্তিনার ভঙ্গুর ডিফেন্সের সেদিন ছিল হাইওয়ের মতো৷ যে রাস্তা প্রবল গতিতে গাড়ি ছুটিয়েছেন এমবাপে! উরুগুয়ের জমাটি রক্ষণ কী সেই সুযোগটা দেবে? মেসিদের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটা কিন্তু কয়েকশোবার দেখে নিয়েছেন দিয়েগো গডিন, হোসে গিমেনেজরা। এবং দেখার পর তাঁরা উরুগুয়ের র৭ণভাগের রাস্তায় যে ট্রাফিক জ্যাম করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কোচ অস্কার তাবারেজ তো পরোক্ষে বলেই দিয়েছেন, এমবাপে তো দূরাস্ত একটা মাচি গলতে দেবে না তাঁর ছেলেরা৷

যদিও ‘ফরাসি বিপ্লব’ ঘটিয়ে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটির দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্য পল পগবা৷ তিনি তো বেলই দিলেন, এমবারের প্রতিভা আর গতির সামনে অনেক শক্তিশালী অট্টালিকাও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে৷

এতকিছুর পরেও অবশ্য বেশ সতর্ক ফ্রান্স৷ শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে তাদেরও কিন্তু তিন-তিনটি গোল হজম করতে হয়েছে৷ মনে রাখা দরকার, ফুটবলে শক্তির লড়াইকে বহুবার পরাস্ত করে এগিয়ে গিয়েছে শৈল্পিক যাদু৷ আর লাতিন ঘরানার উরুগুয়ের হাতে বিশ্বমানের দুই জাদুকর রয়েছে৷ এর কখন ঝুলি থেকে কোন অস্ত্র বের করবে, তা কেউ জানে না৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here