ডেস্ক: হিংসার আগুনে এখনও জ্বলছে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ। গতকাল থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকলেও অশান্তি কমার কোনও লক্ষণ দেখা মিলছে না। গতকাল রাতেই ফের তিন জায়গায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই ১২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, গতকাল রাত ৮টা নাগাদ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পিএলজিসি কলোনির সেচ বিভাগে। সেই সময়ে ওই কোয়ার্টারে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পরস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে দেখলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ১২২ জনকে গ্রেফতার করার পর জেরার মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে তাদের কাছ থেকে। অভিযোগকারীরা কার্যত স্বীকার করে নেয় এলাকা জুড়ে অশান্তি জারি রাখতেই ইচ্ছাকৃত ছোট ছোট আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। একই সঙ্গে তাদের দাবি, পরিকল্পনামাফিক বদলা নেওয়ার জন্য চন্দনকে হত্যা করা হয়েছিল।

চন্দনের হত্যার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে গতকাল বৈঠকেও বসে শান্তি কমিটি। তাতে যোগ দেন শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঠিক হয়, সব দোকানদার নিজের নিজের দোকান খুলবেন। সেইমত সন্ধেয় দোকান খোলেও। পুলিশ দাবি করছে, এলাকায় আপাতত শান্তি পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, কাসগঞ্জের সীমান্ত সিল করে এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। একই সঙ্গে অভিযোগের আঙুল উঠেছে হিন্দু সংগঠনের দিকেও, তারা সংখ্যালঘু এলাকায় বাইক মিছিল করার জন্যই এই সংঘর্ষ ছড়ায়। রজাতন্ত্র দিবসের দিন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং হিন্দু পরিষদের তেরেঙ্গা যাত্রা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ। এই দুই সংগঠনের উপর এমনও অভিযোগ ওঠে যে তারা নাকি মিছিল থেকে আপত্তিজনক স্লোগান দেয়। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ানোর পর চন্দন নামের এক ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। গতকাল সেই কিশোরের অন্তিম সংস্কারের পর ফের হিংসা ছড়ায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here