মহানগর ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলকে আর কত ভেঙে খান্ত হবে বিজেপি? এই প্রশ্ন শুনলে মুকুল রায় সম্ভবত হেসে বলতে পারেন, এখনও আসল খেলা তো শুরুই হয়নি। সত্যিই আসল খেলা শুরু হয়নি। কারণ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন অল্পবিস্তর সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করেছেন একদা তাঁর ঘনিষ্ঠদের।

যে হারে তৃণমূলের নেতা, কাউন্সিলর, বিধায়করা দলবদল শুরু করেছেন তা কিছুটা হলেও অশনি সংকেত বয়ে আনছে বাংলার শাসকদলের জন্য। ‘কুছ পরোয়া নেই’ মনোভাব যতই থাকুক না কেন, সংগঠনের অন্দরে লেগে থাকা ঘুণ কার্যত দৃশ্যমান। লোকসভা ভোটের খারাপ ফলের পর নেতা-মন্ত্রী, কাউন্সিলরদের প্রতি নেত্রীর কড়া মনোভাব চিন্তা বাড়াচ্ছে দলের অন্দরেই। যেই ‘দাদা-ভাই’য়েরা এতদিন বিভিন্ন প্রকল্পে ‘কাটমানি’ খেয়েছেন তারাই এখন মহাফাঁপরে। এমনটা নয় যে এই কাটমানির বিষয়ে ইদানীং জানতে পেরেছেন মমতা। জানতেন বহু আগে থেকেই। কিন্তু এখন ঘুম ভাঙাতে হবে বুঝেছেন। তাই কড়া পদক্ষেপ নিতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন। দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তিও স্বচ্ছ্ব করার দিকে মন দিচ্ছেন তিনি।

তৃণমূল সুপ্রিমো আচমকা এরম স্কুলের ‘প্রধান শিক্ষিকা’ হয়ে ওঠায় অস্তিত্ব সংকট বেশ কয়েকজন বিধায়ক, কাউন্সিলরদের মাথায় ঘুরছে। কারণ যে ‘কাটমানি’র টাকায় তাদের একতলা বাড়ি তিনতলা হয়েছিল, তা এখন ফিরিয়ে দিতে বলেছেন নেত্রী। ফলে অনেকেরই অবস্থা হচ্ছে, ‘না ঘর কা না ঘাট কা।’ অর্থাৎ টাকাও ফেরাতে পারছেন না। আবার যারা টাকা চাইছেন তাদের কিছু বলতে পারছেন না। কারণ টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন খোদ দলনেত্রী।

এহেন অবস্থায় শিবির বদল করাই একমাত্র এবং শেষ পথ হিসেবে পড়ে থাকছে ঘাসফুলের বিধায়ক-কাউন্সিলরদের কাছে। আর সেই সঙ্গেই শুরু হয়েছে দলবদলের এই প্রক্রিয়া। ২০১৬ সালে যেখান ২৯৪ আসনের বিধানসভায় মাত্র তিন জন বিধায়ক গেরুয়া শিবিরের ছিল, এখন সেই সংখ্যা ১৩। জানা যাচ্ছে, একসপ্তাহের মধ্যেই বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন উত্তরবঙ্গের চার তৃণমূল বিধায়ক। ইতিমধ্যেই বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দলবদল নিয়ে তাঁদের আলোচনা সারা হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, তারা অনেকদিন ধরেই দোটানায় ছিলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে সামিল হবেন কিনা। কিন্তু নজরুল মঞ্চের সভায় কাটমানি ফেরত দেওয়া ও কেউ চলে যেতে চাইলে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়ার পরই দল ছাড়ার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নেন তারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here