kolkata news

Highlights

  • গঙ্গাসাগর মেলা এখন যেন অখণ্ড ভারতের এক রূপ
  • কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী নেমে এসেছে সাগর সঙ্গমে
  • পুণ্য লাভের আশায় বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের সাধু-সন্তরা এসে ভিড় জমিয়েছেন


নিজস্ব প্রতিনিধি, গঙ্গাসাগর:
ডিজিটাল ভারতবর্ষের সমস্ত প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলায়। শুধু প্রযুক্তিকেই নয় আধুনিকতার ব্যবহার ছড়িয়েছে গঙ্গাসাগর মেলার আনাচে-কানাচে। কী নেই সেখানে। সমস্ত কিছু নিয়েই যেন গঙ্গাসাগর মেলা। অখণ্ড ভারতের এক রূপ। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী নেমে এসেছে সাগর সঙ্গমে। পুণ্য লাভের আশায়।বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের সাধু-সন্তরা এসে ভিড় জমিয়েছেন।

kolkata news

গভীর রাত থেকে শুরু হয়েছে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান। আট থেকে আশি সকলেই নেমে পড়েছেন জলে। শীতকে উপেক্ষা করে ঠান্ডা গায়ে মেখে ‘গঙ্গা মাই কি’ জয় বলে ঝাঁপ দিচ্ছেন জলে। কেউ কেউ আবার পুজো দিয়ে দিচ্ছেন সঙ্গে সঙ্গে। খালি গায়ে মাথায় ফুল, প্রসাদ হাতে নিয়ে ছুটছেন কপিলমনি মন্দিরের দিকে। তাদের ভাবখানা এমন, আগে গেলেই বেশি পুণ্য পাওয়া যাবে। প্রায় সারা রাত খোলা আছে কপিলমুনি মন্দির। যেহেতু মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান প্রথম শুরু হবে গভীর রাতে তাই আখড়া ছাড়েননি নাগা সাধুরা। এখানে ভক্ত আর ভক্তি, ধুপধুনো আর গাঁজার গন্ধ মিলেমিশে একাকার। সারারাত ধরে বিভিন্ন আখড়াগুলিতে চলছে ভজন সংকীর্তন, লঙ্গরখানা সব মিলিয়ে যেন মিনি ভারতবর্ষ। কেউ এসেছেন অযোধ্যা থেকে, কেউ বা বরেলি। কেউ পাটনা বা কেউ আবার আজিমগঞ্জ থেকে। সবাইকে নিয়ে যেন বিশাল একটাই পরিবার। মহান ভারত। মহান ভারতেও হারিয়ে খুঁজে ফিরছেন বহু মানুষ। মাইকিং করে চলছে হারানো মানুষদের খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টা।

নাগা সাধুদের আখড়াগুলিতে জ্বলন্ত কাঠের কুণ্ডের সামনে অদ্ভুত নির্লিপ্ত দু’টি চোখ নিয়ে বসে আছে তারা। ধুনির লেলিহান শিখা জ্বলছে৷ সেই আগুনকে টেক্কা দিয়ে দু’আঙুলের ফাঁকে জ্বলে উঠছে এক একটি ঝলক৷ কলকেতে টান মেরে চোখ লাল করে বাতাস মুখরিত হচ্ছে ‘জয় জয় শম্ভু’৷ ‘জয় ভোলেনাথ’, ‘হর হর মহাদেব’। অন্যদিকে, কপিলমুনির মন্দির থেকে আওয়াজ উঠছে ‘কপিলমুনি কি জয়’।

 

kolkata newsকেউ তান্ত্রিক, কেউ বৈষ্ণব সন্ন্যাসী, কেউ বা আবার নাগা সন্ন্যাসী। বাতাসে ভুরভুর করতে থাকে যজ্ঞের ধোঁয়া, সঙ্গে গাঁজার গন্ধ। ছোট ছোট ছাউনিগুলিতে রীতিমতো সংসার পেতে বসেছেন এই সন্ন্যাসীরা। কত সাধু আছেন তা বলা মুশকিল। কেউ আসেন রোজগার করতে, কেউ বা পুণ্য করতে। আবার কেউ বা সুদীর্ঘ জটাধারী ছাইমাখা সাধু। সেইসব সাধুদের সামনে পাপস্খলন করার চেষ্টায় ময়ূর পালক মাথায় ছোঁয়াতে উদগ্রীব সকলেই।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও যাত্রীদের সুবিধার জন্য রয়েছে অস্থায়ী শৌচালয়, ফাস্টএড, অ্যাম্বুল্যান্স, আর বিশাল পুলিশবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক। জলে টহল দিচ্ছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। আকাশে উড়ছে হেলিকপ্টার। ছবি তুলছে ড্রোন। সাফাই কর্মীদের তৎপরতা বেশ উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সাগর মেলায় আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও দুই ব্যক্তি। একজন হলেন অচিন্ত্য সাউ। বাড়ি সাগরের মনসাতলা এলাকায়। এদিন তাঁকে ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া স্বপজান সাও নামে এক ব্যক্তিকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে এয়ার আম্বুল্যান্সে করে। বিহারের এই পুণ্যার্থীর হৃদপিণ্ড ঠিকঠাক কাজ না করায় তাকে পাঠানো হয়েছে কলকাতায়।

গঙ্গাসাগর মেলায় সবমিলিয়ে প্রায় ৩১ লক্ষ মানুষ এসেছেন বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, স্নানের সময় এত মানুষ ভিড় করছেন যে, প্রশাসন সমস্ত ব্যবস্থা রেখেছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। মেলাকে কেন্দ্র করে এখনও কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার সকালে কচুবেড়িয়াতে জেটির একাংশ ভেঙে গেলে কিছুক্ষণের জন্য জেটিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়। পরবর্তীতে দ্রুত জেটি মেরামতি করায় আবার পরিষেবা শুরু করেছে সেচ দফতর। ৬১২ জনকে হারানো এবং ফিরে পাওয়া গেছে। ১১২ জনকে বিভিন্ন অসামাজিক কাজের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাকে নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য কোস্টগার্ডকে মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের হোভারক্রাফট এবং স্পিডবোট নিয়মিত টহল দিচ্ছে সাগর সঙ্গমে। জেলা প্রশাসনের অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, মণীশ গুপ্ত, সুজিত বসু, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী এবং জেলাশাসক পি উলাগানাথান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here