kolkata news

Highlights

  • মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের
  • কয়েক মিনিটেই রুখে দিল গড়ফা থানার পুলিশ
  • মানসিক অবসাদের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করতে চাইছিলেন যুবক

রাজেশ সাহা, কলকাতা : ফের শহর কলকাতায় ফেসবুকে লাইভ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের। তাঁরই এক ফেসবুক বন্ধুর থেকে খবর পেয়ে দ্রুত তৎপর হয়ে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা রুখে দিলো গড়ফা থানার পুলিশ। শনিবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে গড়ফা থানা এলাকার কালিতলা রোডে। কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় আরও একবার বেঁচে গেল একটি তরতাজা প্রাণ। মানসিক অবসাদের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করতে চাইছিলেন বলে স্বীকার করেছেন ওই যুবক।

লালবাজার সূত্রের খবর, শনিবার রাত ১টা ৩২মিনিটে ১০০ নম্বরে ডায়াল করে নীলাদ্রি বন্দোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি জানান, তাঁর এক ফেসবুক বন্ধু লাইভ ভিডিও করে আত্মহত্যা করার কথা জানাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই আত্মঘাতী হবেন বলেও ওই লাইভ ভিডিওতে কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন তিনি। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই লাইভ চোখে পড়তেই ১০০ ডায়াল করে পুলিশের সাহায্য চান নীলাদ্রি বাবু।

এই তথ্য পেয়েই লালবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের তরফে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় গড়ফা থানার পুলিশের সঙ্গে। শনিবার গড়ফা থানায় নাইট ডিউটিতে ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর সৌভিক দাস। তার নজরে বিষয়টি আনেন লালবাজারের আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মহত্যা করতে চলা ওই ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা চেয়ে নীলাদ্রি বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এসআই সৌভিক দাস। যদিও তার বাড়ি সঠিকভাবে চিনতেন না নিলাদ্রি বাবু। ফলে সাময়িক ভাবে বেকায়দায় পড়তে হয় পুলিশকে।

এক আধিকারিকের দাবি, “ওই ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে আইপি অ্যাড্রেস অথবা তার মোবাইল নাম্বার পেলে টাওয়ার লোকেশন ট্র‍্যাক করে সহজেই যাওয়া যেত, কিন্তু সেটা একটু সময় সাপেক্ষ বিষয়। ওই ব্যক্তি যেহেতু আত্মহত্যা করতে চলেছেন তাই আমাদের হাতে বিন্দুমাত্র সময় ছিল না নষ্ট করার মতো”। এর পরেই ওই ব্যক্তির প্রোফাইলে থাকা আরও এক ‘বন্ধুর’ সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় গড়ফা থানার পক্ষ থেকে।

সৌভাগ্যবশত ওই ব্যক্তিই পুলিশকে সঠিকভাবে চিনিয়ে দেন তার বাড়ি। জানা যায় সাঁফুই পাড়ার কাছে কালিতলা রোডের বাসিন্দা ওই যুবক। ঘটনাচক্রে মধ্যরাতে এলাকায় টহল দিতে বেরিয়ে ওই পাড়াতেই ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর সৌভিক দাস। তাই কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাহিনী নিয়ে সেই ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছে যেতে সক্ষম হন তিনি। হাতেনাতে রুখে দেন আত্মহত্যার প্রচেষ্টা। বরাত জোরে রক্ষা পেয়ে যায় একটি প্রাণ।

পুলিশ সূত্রে খবর, বছর তিরিশের ওই যুবক দীর্ঘ দিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এরজন্য দু-একবার মনবিদের সাহায্যও নিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন আগেই। মাকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। শখে গান-বাজনা নিয়েই থাকতে ভালোবাসেন। জীবনে বড় গায়ক হবার শখ ছিল তাঁর। যদিও সেই আশা পূরণ হয়নি। পাশাপাশি ত্রিশ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পরেও জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ না করতে পারাই, অবসাদের অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ।

গতকাল মধ্যরাতেই প্রায় ঘন্টা খানেক তাঁর সঙ্গে কথা বলে ‘বোঝানোর যথাসাধ্য চেষ্টা’ করেছেন গড়ফা থানার আধিকারিকরা। ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবেন না বলেও পুলিশের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন ওই যুবক। তবে সেই কথাতে ভরসা রাখতে চাইছে না পুলিশ। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে তাঁর কাউন্সেলিং এর জন্য মনোবিদের সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। আজ ফের তাঁকে থানায় ডেকে কথা বলবেন আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here