মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানে বিধায়ক ধরে রাখতে মরিয়া কংগ্রেস। অবশেষে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের দাবি মেনে ১৪ অগস্ট বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে সম্মত হওয়ার পরপরই শাসক শিবিরের প্রধান চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্লোর টেস্টে শাসক দলের সমর্থনে বিধায়কদের ধরে রাখা। সেই কারণেই শাসকদলের সমর্থক বিধায়কদের চার্টাড বিমানে করে রাজধানী জয়পুর থেকে ৫৫০ কিমি দূরে জয়সালমিরে নিয়ে যাওয়া হল।

বিধানসভা অধিবেশনের দিন স্থির হওয়ার পর থেকেই ঘোড়া কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের শিবিরে আশঙ্কা তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট গতকাল অর্থাৎ বৃহষ্পতিবারই ইঙ্গিত দেন যে বিধানসভার এই অধিবেশনেই তিনি ফ্লোর টেস্ট করে তাঁর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন এই পরিস্থিতিতে পাঁচিল টপকানোর জন্য বিধায়কদের দর বিপুল পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। বিধায়ক শিকারিদের হাত থেকে সমর্থক বিধায়কদের বাঁচানোর জন্যই শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়া হয় চার্টাড প্লেনের উড়ানকে।

চলতি মাসের ১৩ তারিখ থেকে কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়ক শচিন পাইলটের ১৮ জন অনুগামী বিধায়ক দিল্লির কাছে হরিয়ানার মানেসরে দু’টি রিসর্টে আশ্রয় নিয়েছে। শচিন পাইলট দাবি করেছেন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন না। খুব সামান্য ব্যবধানে সরকার গড়া কংগ্রেসের অশোক গেহলটের আশঙ্কার সেই শুরু। যদিও প্রকাশ্যে কংগ্রেস ও গেহলট দাবি করে এসেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে তারা আত্মবিশ্বাসী। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠিও তিনি জমা দিয়েছেন রাজ্যপালের কাছে। যে বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও টাকা নেননি তাদের কংগ্রেসে ফিরে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন গেহলট।

মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তারা বিধানসভায় যাবেন এবং ফ্লোর টেস্টও হবে। যদিও এই বিষয়ে বিধানসভার বিজনেস অ্যাডভাইসারি কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান। অধিবেশনে করোনাভাইরাস ও লকডাউনের ফলে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতিও আলোচ্য বিষয়বস্তুর মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার রাতে রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র ১৪ অগস্ট বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে রাজি হওয়ার পর থেকেই বিধায়কদের কাছে ফোন যাওয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন আগে বিধায়কদের ‘রেট’ ছিল প্রথম দফায় ১০ কোটি এবং দ্বিতীয় দফায় ১৫ কোটি। ”যারা বেরিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে কে কে প্রথম দফার টাকা নিয়েছেন আমি জানি না। তবে এমন সম্ভাবনা আছে যে কেউ কেউ এখনও টাকা নেননি। আমি চাই তারা ফিরে আসুক।” যারা বিক্ষুব্ধ তাদের ক্ষোভ জানানোর জন্য সরে না গিয়ে এআইসিসি অফিসে যাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন অশোক গেহলট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here