মর্গানের গোলে কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল লাল-হলুদ

0

ইস্টবেঙ্গল- ০         জর্জ টেলিগ্রাফ-১ (মর্গান)

নিজস্ব প্রতিবেদন: পারেনি মোহনবাগান। তিন পয়েন্ট পেতে ব্যর্থ মহামেডানও। আর আজ কলকাতা লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুহূর্তের ভুলে মুখ থুবড়ে পড়ল কোয়েস ইস্টবেঙ্গলও। শেষ কবে কলকাতার তিন প্রধানই কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে জয় পেতে ব্যর্থ, তা স্মরণাতীত। কয়েকদিন আগেই ডুরান্ড কাপে জামশেদপুরকে গোলের মালা পড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শুক্রবার কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচেই জর্জের কাছে হারল লাল-হলুদ।

এদিন দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেছিলেন লাল-হলুদ কোচ আলেহান্দ্রো মেনান্দেজ গার্সিয়া। রেজিস্ট্রেশন সমস্যায় দলে ছিলেন না কোলাডো, কাশিম ও বোরহা। একমাত্র বিদেশি মার্তিকে নিয়েই জর্জের মুখোমুখি হয় দল। এদিন লাল-হলুদের হয়ে অভিষেক হয় রোনাল্ডো, শুভনীলের। জামশেদপুর ম্যাচের দলের থেকে এদিন মোট আটজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেছিলেন গার্সিয়া। আসলে তিনি বলেই দিয়েছিলেন কলকাতা লিগ ও ডুরান্ড কাপ তাঁর কাছে প্রি-সিজন। তাই প্রতিম্যাচেই নিত্যনতুন প্রথম একাদশ খেলাচ্ছেন তিনি। এদিনও নামালেন, কিন্তু সেই পরীক্ষায় মুহূর্তের ভুলে পাশ করতে পারলেন না স্প্যানিশ কোচ। ডিফেন্সের, বিশেষ করে মার্তির ভুলে শেষ মুহূর্তের গোল খেয়ে ম্যাচ হারতে হল ইস্টবেঙ্গলকে।

অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ দল নিয়েই এদিন ম্যাচে নামে লাল হলুদ। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই গোলেরখুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর সিং। কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হাঁটে জর্জ ও। নামের বিচারে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে থাকলেও জর্জ দলে অভিজ্ঞ মুখ ছিল অনেক বেশি। সেই অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে বারংবার লাল হলুদ ডিফেন্সে হানা দিচ্ছিলেন ইচেরা। প্রথমার্ধে বেশ ব্যস্তই থাকতে হল রক্ষিত ডাগরকে। ৩৭ মিনিটে একেবারে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন সানডে। কিন্তু বেছে বেছে তিনি ডাগরের হাতেই শট মারেন। ইস্টবেঙ্গলের তরুণ খেলোয়াড়রাও কিন্তু যথেষ্ট ভালো ফুটবল উপহার দেন। কিন্তু আটাকিং থার্ডে গিয়েই জর্জের কড়া ডিফেন্সের সামনে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন বিদ্যাসাগর, রোনাল্ডোরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও তুল্যমূল্য লড়াই শুরু থেকেই করে দুই দল। ৪৯ মিনিটে জর্জের রাজীব দূরপাল্লার একটি শটে লাল হলুদ বার নাড়িয়ে দেন। বিপদ বুঝে পরপর তিনটি পরিবর্তন করেন আলেহান্দ্র। অভিজিৎ, প্রকাশ ও শুভনীলের বদলে মাঠে আসেন পিন্টু, রোহলুপুইয়া ও ব্রেন্ডন। এই তিনটি পরিবর্তনেই খোলস ছেড়ে চেনা মেজাজে ইস্টবেঙ্গল। বারবার জর্জ বক্সে হানা দেন বিদ্যাসাগর, পিন্টু, রোহলুপুইয়া রা। গোল পেতে ক্রেসপিকেও একটু উপরে তুলে নেন আলেহান্দ্র। ৬৫ মিনিটে জর্জ বক্সের মাথা থেকে সুন্দর একটি শট নিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। ফুল স্ট্রেচ করে কোনো রকমে দলের পতন রোধ করেন গোল কিপার। ম্যাচের সময় যত গড়িয়েছে চাপ বাড়িয়েছে লাল হলুদ। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে সেই সব আক্রমণ রুখে গেলেন জর্জ টেলিগ্রাফ খেলোয়াড়রা। বরং সকলকে অবাক করে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে লাল-হলুদ গ্যালারিকে স্তব্ধ করে গোল করেন মর্গান। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডিফেন্ডার মার্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। প্রায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিপক্ষর গোল করা দেখলেন তিনি। শেষমেশ খালি হাতেই কলকাতা লিগ অভিযান শুরু করতে হল ইস্টবেঙ্গলকেও।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: অভিজিৎ, নাওরেম, রোনাল্ডো, মার্তি, সামাদ, বিদ্যাসাগর, মেহতাব, প্রকাশ, ডাগর, মনোজ, শুভনীল

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here