নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: গত শনিবার নাবালিকা গিয়েছিল তার মাসির বাড়িতে, হরিরামপুরে। সেখান থেকে জ্বর নিয়ে সে ভর্তি হয় হরিরামপুর হাসপাতালে। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকেরা ভেবেছিলেন তার কালাজ্বরই হয়েছে। তাই তার রক্ত পরীক্ষা করার জন্যও নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের বিএমওএইচ ডাঃ সৌভিক আলম নাবালিকাকে পরীক্ষা করতে গিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়ায় তিনি বংশীহারি থানার পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখনই জানা যায় ওই নাবালিকা আদৌ কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়নি, সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। খবর যায় নাবালিকার পরিবারের কাছেও। সেই সময় জানা যায় পাঁচ মাস আগে ওই নাবালিকার বাড়ি বংশীহারি থানার যে শ্যাম্পুর গ্রামে, সেখানকার এক যুবকের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়। তার জেরেই এখন সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

 

পুলিশের মাধ্যমে ওই নাবালিকার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। তারা এটাও জানায় যে বাড়ির মেয়ের সঙ্গে গ্রামেরই ওই যুবকের সম্পর্কের কথা তারা জানতো না। বংশীহারি থানার পুলিস নাবালিকার বয়ান শোনার পর নিরোধ মুর্মু(২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নাবালিকার দিদাকে দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে। তারপর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার রাতেই নিরোধকে বুনিয়াদপুরের শ্যাম্পুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার তাকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিস আধিকারিক বিপুল ব্যানার্জী জানান, ‘নাবালিকার বয়ানে এটা পরিস্কার সম্পর্কের ভিত্তিতেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু সে নাবালিকা তাই গ্রেফতার হওয়া যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগই দেওয়া হয়েছে। বিচারক অভিযুক্তকে দুই দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। নাবালিকাকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here