kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: জন্মদিন পালন করার ইচ্ছে হয়েছিল মেয়ের। সেই আনন্দে নিজের মতো করে আমন্ত্রিতদের তালিকাও তৈরি করেছিল। গরীব বাবা-মায়ের পক্ষে সাড়ম্বরপূর্ণ জন্মদিন পালন করার সামর্থ হলনা। যে কারণে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল দশম শ্রেণীর ছাত্রী রীতা রায়। তারুণ্যের আবেগপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাকে অচিরেই ঠেলে দিন মৃত্যুর কোলে। জন্মদিনই হয়ে উঠল তার মৃত্যুদিন। বীরভূমের বোলপুর থানার কৃষ্ণাবাটি এলাকায় ছোট মেয়ের জন্মদিনেই মৃত্যুশোক গ্রাস করেছে রীতার গোটা পরিবারকে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষ্ণাবাটির শৈলবালা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী রীতা রায় দশম শ্রেণীতে পড়ত। রীতার বাবা পেশায় সব্জি বিক্রেতা ও মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। বুধবার ছিল রীতার জন্মদিন। রীতার মা চুমকি দেবী জানান, তার চার মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, বাকি দুই মেয়ের মধ্যে শিখা দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ে ও ছোট মেয়ে রীতা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। শুক্রবার দিদির সঙ্গে ধুমধাম করে নিজের জন্মদিন পালন করার পরিকল্পনা করেছিল রীতা। তাই আগেভাগেই ১৫০ জন আমন্ত্রীতর তালিকাও তৈরি করেও ফেলেছিল। শুক্রবার তার স্বামী ও তিনি নিজে কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিকেল চারটেয় বাড়ি ফেরেন। তখনই তার দুই মেয়ে জন্মদিন পালনের কথা তাকে জানান।

তারা এও জানায় রাতে তারা পার্টি দেবে, তাই ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জনকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। চুমকি দেবী তার দুই মেয়েকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এত ধুমধাম করে জন্মদিন পালনের মতো টাকা নেই তার কাছে। মাত্র ১৫০০ টাকা রয়েছে। তাদের বাবা অর্থাৎ তুলসীবাবু বাড়ি ফিরলে আলোচনা করে কিছু একটা ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কিন্তু ছোট মেয়ে রীতা তার কথা মানতে চায়নি। এই নিয়ে দুই মেয়ের লঙ্গে চুমকিদেবীর বচসা বাধে। এরপরেই ঘরের মধ্যে ঢুকে রীতা নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে সিয়ান হাসপাতাল এবং পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here