নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ প্রতিবেশী ঠাকুমাকে দেখভাল করতে গিয়ে এক ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী হতে হল এক নাবালিকাকে। উপকারের পরিবর্তে ঠাকুমার ছেলের হাতেই ধর্ষণের শিকার হতে হল এক নাবালিকাকে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার সিউড়ি থানা এলাকায়। ধর্ষণের পর নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের দাবি করে ভয় দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। আতঙ্কে পড়াশোনাও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই নাবালিকার। এরই মাঝে নাবালিকার পরিবারের তরফে অভিযোগ উঠেছে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ জানানো হলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। তাই সুবিচারের আশায় শুক্রবার জেলা শাসকের দ্বারস্থ হতে হয় ওই নাবালিকা ও তার পরিবারকে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত মাস ছয়েক আগে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন তাপস দত্ত। তিনি ওই নাবালিকার প্রতিবেশী। নাবালিকা তাকে কাকু বলে ডাকতো। তারই বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করার। অভিযুক্ত ব্যক্তির মা অসুস্থ অবস্থায় সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ঘটনার দিন। রাত্রে মায়ের কাছে থাকার জন্য প্রতিবেশী নাবালিকা ভাইজিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তাপস। সেখান থেকে খাবার খাওয়ানোর নাম করে নাবালিকাকে মোটরবাইকে চাপিয়ে সিউড়ী মিনি স্টিল এলাকাতে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। নাবালিকা ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রথমবার তাকে ধর্ষণ করে সেখানেই। এরপরেও নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে আবার কোন এক নির্জন স্থানে ফের তার লালসার শিকার বানায় নাবালিকাকে। পরদিন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে চলে আসে ওই নাবালিকা। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি ওই ঘটনার পর থেকেই তাদের মেয়ে্র আচার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছি। খাবার-দাবার একবারে খেতে চাইত না, লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তাও কম বলতো। এমনকি মাধ্যমিকে এবার অকৃতকাজ হলেও ফের পড়াশোনা করতে সে নিমরাজি হয়ে যায়।

এদিকে ওই নাবালিকাকে শারীরিক শোষণ করার পরও থেমে থাকেনি ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি। পথে-ঘাটে যেখানে নাবালিকাকে একা পেয়েছি সেখানেই তাকে বারবার কুপ্রস্তাব দেওয়া হত বলে অভিযোগ। এরপর ওই নাবালিকা বাধ্য হয়ে তার এক বান্ধবীকে বিষয়টি জানায় এবং সেই বান্ধবির দাদার মাধ্যমে গত এক সপ্তাহ আগে নাবালিকার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। বিষয়টি জানার পরই গত দুদিন আগে সিউড়ি মহিলা থানায় তাপস দত্তের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। নাবালিকা এবং তার মা-বাবার অভিযোগ লিখিত ভাবে দায়ের করা হলেও এখনও অবধি গ্রেপ্তার করা হয়নি তাপসকে। অন্যদিকে এত কিছু ঘটনা ঘটার পরেও চুপ করে বসে থাকছে না অভিযুক্তও। লজ্জা তো দূরের কথা, রীতিমত এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ওই নাবালিকাকে লাগাতার খুনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তাপস। বাধ্য হয়ে শুক্রবার জেলা শাসকের কার্যালয় আসে নাবালিকাও তার পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here