bengali news on unnao

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সারা শরীরে তীব্র যন্ত্রনা নিয়ে দীর্ঘ ৪০ ঘন্টার লড়াই শেষে মৃত্যুর গ্রাস করেছে উন্নাওয়ের সাহসিনিকে। মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কাঁপা কাঁপা গলায় তাঁর আর্জি ছিল, ‘আমাকে বাঁচান। আমি মরতে চাই না। অপরাধীদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।’ তাঁর গলায় গলা মিলিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব গোটা দেশ। সরকারী টাকা নয়, এক সপ্তাহের মধ্যে দোষীদের ফাঁসি চেয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তবে শাস্তির পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে একটি সরকারী চাকরির আবেদন জানালেন নির্যাতিতার বোন।

নির্যাতিতার মৃত্যুর পর ইতিমধ্যেই ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের তরফে তাঁদের ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও আবাস যোজনায় একটি বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। যদিও নির্যাতিতার বাবার তরফে রবিবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যদি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁদের সঙ্গে এসে সাক্ষাৎ না করেন তবে দেহ দাহ করবেন না তারা। এরই মাঝে সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নির্যাতিতার বোন জানান, দোষীদের কঠোর শাস্তিতো বটেই পাশাপাশি তাঁকে একটি চাকরি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণ মামলার শুনানির জন্য আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা তরুণী। রায়বরেলি থেকে ট্রেন ধরে আদালতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পথে তাঁকে ধাওয়া করে ৫ দুষ্কৃতী। সেই দলে ছিল ধর্ষণে অভিযুক্ত শিবম ত্রিবেদী এবং শুভম ত্রিবেদী। রেলগেটের কাছে এক নির্জন জায়গায় প্রথমে লাঠি দিয়ে নির্যাতিতার পায়ে সজোরে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। এরপর ছুরি চালানো হয় গলায় সবশেষে গায়ে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় নির্যাতিতাকে। ওই অবস্থাতেই প্রায় ১ কিলোমিটার দৌড়ে এক ব্যক্তির কাছে ফোন চেয়ে পুলিশকে ফোন করে সে। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ার এয়ারলিফট করে তাঁকে উড়িয়ে আনা হয় দিল্লিতে। শুক্রবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের ‘বার্ন ও প্লাস্টিক’ ডিপার্টমেন্টের প্রধান চিকিত্সক শলভ কুমার জানান, শুক্রবার রাত ১১ টা ১০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই নির্যাতিতা এরপর ১১টা ৪০ নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here