football news
ছবি- আই লিগ টুইটার

 

ইস্টবেঙ্গল- ১ (কাশিম)        গোকুলাম- ৩ (হেনরি, মার্তি আত্মঘাতী, জোসেফ)

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০১৯ সালের শেষটা আই লিগে বেশ ভালোভাবেই শেষ করার পর ২০২০ সালের শুরুতেই পরপর দুবার মুখ থুবড়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গল। চার্চিলের কাছে হারের পর এবার গোকুলামের কাছেও হার। জঘন্য ডিফেন্সের কারণে ডার্বির আগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। একদিকে যখন উপরে গোলের চেষ্টা করে গেলেন খুয়ান, কোলাডো, মার্কোসরা, তখন ডিফেন্সে দায়িত্ব নিয়ে ঝোলালেন মার্তি, আশীর, আম্বেকররা। বিপক্ষে মার্কাসের মতো বিপজ্জনক স্ট্রাইকার থাকতেও কেন তাঁকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিল না ইস্টবেঙ্গল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক তা বুদ্ধির অতীত। আগামী রবিবার ডার্বি। ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স যা খেল দেখাল, তাতে মোহনবাগান সমর্থকরা কিন্তু খুশি হতেই পারেন।

এদিন দলে দুটি পরিবর্তন এনেছিলেন আলেহান্দ্রো। মেহতাবের জায়গায় আশীর ও অভিজিতের জায়গায় পক্স সারিয়ে ফেরা পিন্টুকে নামিয়েছিলেন লাল হলুদের স্প্যানিশ কোচ। মার্কোসকে লোন স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর পিছনে জুড়ে দিয়েছিলেন কোলাডোকে। দল সাজিয়েছিলেন ৪-৪-১-১ ছকে। ডিফেন্সে আশীর, মার্তি, কমলপ্রীত, অভিষেকে রেখেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই যেন একেবারেই ভেঙে পড়ল লাল হলুদ রক্ষণ। বারবার ভুল করলেন প্রধান ডিফেন্ডার মার্তি। আর তার ফলে নড়বড়ে হয়ে গেল গোটা ডিফেন্স লাইনই। তাও আবার গোকুলামের একাধিক প্রথম একাদশের খেলোয়াড় এদিন ছিলেন না। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল গোলে ভাগ্যিস মাউইয়া ছিলেন। না হলে আজ হাফ ডজন গোল হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।

এই বছরের গোকুলাম যে আগের বছরের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী সেটা ডুরান্ড কাপেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে ম্যাচটা যে সহজ হবে না ইস্টবেঙ্গলের জন্য সেটা জানাই ছিল। শুরু থেকেই আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। তবে ৯ মিনিটে বক্সের বেশ অনেকটা বাইরে থেকে খুয়ান মেরার বাঁধিয়ে রাখার মতো লং রেঞ্জার কোনও রকমে বাঁচান উবেইদ। এর পরেই কিছুক্ষণের জন্য যেন খেলা থেকে হারিয়ে যায় লাল হলুদ। গোকুলামের ক্রমাগত আক্রমণে ছন্নছাড়া ইস্ট ডিফেন্স। ১৫ মিনিটে কিসেকা ও মার্কাসের জোড়া শট আটকান মাউইয়া। কিন্তু বেশিক্ষণ দলের পতন আটকাতে পারেননি তিনি। ২০ মিনিটে কিসেকার শট সোজা ঢুকে যায় গোলে। বাগানের প্রাক্তনী যখন শট নেন তখন বক্সে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ ছিল না। গোল খাওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই অবশ্য তা শোধ করে ইস্টবেঙ্গল। ডিডিকার ফ্রিকিক বক্সে এসে পড়লে হেড করেন আশীর। তাঁর হেডার বারে প্রতিহত হয়ে সোজা কাশিমের পায়ে পড়লে তিনি তা গোলে পাঠাতে ভুল করেননি। আর এই গোল শোধ করেই যেন তেড়েফুঁড়ে ওঠে কলকাতার প্রধান। বারবার গোকুলাম ডিফেন্সে হানা দেন মার্কোস, কোলাডোরা। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় আত্মঘাতী গোল করে বসেন ক্রেসপি। মার্কাসের নির্বিষ মাইনাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে সোজা নিজের গোলেই মেরে বসেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে একটা সময় যে ভাবে ম্যাচের দখল নিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়রা, মার্তির আত্মঘাতী গোলের ফলে দ্বিতীয়ার্ধে একেবারেই খেই হারিয়ে ফেললেন কোলাডো, কাশিমরা। অন্যদিকে, বারবার আক্রমণ শানাল গোকুলাম। মাউইয়া বেশ কয়েকবার দলের পতন রোধ করলেও, গোটা ডিফেন্স লাইনের ভুল কতবার তিনি শোধরাবেন? ৬৫ মিনিটে গোকুলামের হয়ে তৃতীয় গোল করে গেলেন মার্কোস। এটাও এল আশীরের ভুল থেকেই। মাঝমাঠে একটি লং বল অ্যালাও করলেন আশীর। বল ড্রপ খেয়ে তাঁর মাথার ওপর দিয়ে চলে গেল কিসেকার কাছে। তিনি সেটা সাজিয়ে দিলেন মার্কোসকে। ক্যারিবিয়ান এই স্ট্রাইকার তা থেকে শট নিলে সেভ করেন মাউইয়া। কিন্তু রিবাউন্ড বল গোলে পাঠান সেই মার্কোস। এই সময় আলেহান্দ্রোকে একেবারেই অসহায় লাগছিল। আসলে রিজার্ভ বেঞ্চে খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় তাঁর কাছে নেই। পাঁচনের মশলা দিয়ে কি বিরিয়ানি রাঁধা যায়! খেলা শেষের দিকে যত গড়াল, তত আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু জমাট গোকুলাম ডিফেন্স ভাঙতে পারেননি খুয়ান, ডিডিকারা। এই ম্যাচে হারের ফলে ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে নেবে গেল লাল হলুদ। ফলে আগামী রবিবার মোহনবাগান যে একটু এগিয়েই খেলতে নামবে, তা বলাই বাহুল্য।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: মাউইয়া, অভিষেক, ক্রেসপি, আশীর, কমলপ্রীত, ডিডিকা, কাশিম, খুয়ান, পিন্টু, কোলাডো ও মার্কোস

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here