ডেস্ক: আজ বিশ্ব পিতৃ দিবস। সারা পৃথিবীতে আজ এই বিশেষ দিনটি পালন করা হচ্ছে। একজন সন্তানের কাছে তাঁর বাবার স্থান কখনই ভোলা সম্ভব হয় না। বাবা হলেন এমনই একজন মানুষ যিনি নিঃস্বার্থভাবে তাঁর সন্তানকে ভালবাসেন এবং তাকে একজন ভাল মানুষ হওয়ার জন্য উৎসাহদান করেন। তাই পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এই দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। অবশ্য বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য বিশেষ কোনও দিনের দরকার হয় না। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে এই পিতৃদিবস উৎযাপন করা হয়ে থাকে। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের ছেলেমেয়েদের প্রতি দ্বায়িত্বশীল সেটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়। আজ যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই ছেলেমেয়েরা তাঁদের বাবা মায়েদের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে না, সেখানে এই পিতৃদিবস, মাতৃদিবস উৎসবগুলি তাঁদের দায়িত্বের কথাগুলি মনে করিয়ে দেবে। এদিন সন্তানরা তাঁদের বাবাকে বিভিন্ন গিফট দেয়, এই গিফট পেয়ে বাবারাও অবশ্য মনে মনে খুব খুশি হয়। পিতৃদিবস জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহের রবিবার পালন করা হয়।

কিন্ত এই বিশেষ দিনটি উৎযাপনের পিছনে একটি ইতিহাস লুকিয়ে আছে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় ১৯০৮ সালে প্রথমবারের মতো এই ‘ফাদার্স ডে’ পালন করা হয়। গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটন নামক এক মহিলাই এই উদ্যোগটি প্রথমবারের জন্য নিয়েছিলেন, এবং রবিবারের কাজ উৎসর্গ করেছিলেন সেইসব ২০০ জন মৃত বাবাদের উদ্দেশ্যে যারা একটি খনি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল। ওই দিন থেকেই পিতৃ দিবসের ভাবনার জন্ম হয়। কিন্তু ১৯০৯ সাল অবধি এই দিনটি একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়, তারপর ওয়াশিংটন থেকে সোনারার স্মার্ট ডোড স্পোকেন মন্ত্রীসভা এবং ওয়াইএমসিএ-কে তিনি ৫ জুন ফাদার্স ডে হিসেবে পালন করার আর্জি জানায়। তারপর দেখা যায় ১৯১০ সালে ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহর ১৯ শে জুন ফাদার্স ডে হিসেবে পালন করা হচ্ছে। তারপর পার্শ্ববর্তী এলাকায় এইভাবেই খবর যায় যে, স্পোকেন শহর নিজেদের মতন করে এই দিনটি উদযাপন করছে।

সেই সময়ের আমেরিকায় ক্ষমতাধিন কংগ্রেস প্রথম একটি বিল আনে, যেখানে তারা ফাদার্স ডে-কে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করার আর্জি জানায়। আর সেই বিল ১৯৭২ সালে ফাদার্স ডে হিসেবে পাস করানো হয় এবং বলা হয় যে, জুন মাসের তৃতীয় রবিবার এই দিনটিই জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হবে। আজ গুগল ডুডল নিজেদের হোম পেজ ভিন্ন ভিন্ন রং আর চিহ্ন দিয়ে সাজিয়ে ফাদার্স ডে পালন করলো। তাই শুধু একটা দিন নয় রোজই পালন করা হোক ফাদার্স ডে ভালোবাসায় এবং সম্মানের সঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here