শিবপ্রসাদ ও নন্দিতার নিখাদ মন ভালো করা ছবি ‘গোত্র’

0

আরাত্রিকা দে: এক কথায় ‘গোত্র’ পূরাণ খচিত, শ্রী কৃষ্ণ ও মা যশোদার গল্প। আর তাই জন্মাষ্টমীর দিনই খুললো গোবিন্দ ধামের দরজা। কি কি হলো সেই দরজা খোলার পর???? নিপাট একটা মা ছেলের ভালোবাসা আর খুনসুটির উপাখ্যান। একজন মা? তার আবার কি সংজ্ঞা হতে পারে বলুন তো? শাসন করতে পারে, সোহাগ করতে পারেন, পড়া না পারলে কান ধরে শাস্তি দিতে পারেন। মিথ্যে বললে বাড়ির বাইরে বের করে দিতে পারেন। এইসবের পর বাড়ির পুজোর সংকল্প সন্তানের নামে করতে পারে। করে বলতে পারেন ‘গোত্র মনুষ্যত্ব। ধর্ম মানবিকতা।’ এটাই হয়ত মায়ের সংজ্ঞা। আর একজন ছেলের সংজ্ঞা কী? বলতে পারেন? একবার ‘মা’ হারিয়ে নতুন করে তাঁকে ফিরে পেলে কী করবে আর কী করবে না-বুঝেই উঠতে পারে না! বকলে বিরক্তিতে দাঁত কিড়মিড় করে। আদর পেলেই দুনিয়া তার পায়ে উপুড় করতে চায়। পড়াতে বসালেই রাজ্যের বিরক্তি। মায়ের জন্য সে প্লাম্বার থেকে রাজমিস্ত্রি মায়ের বাড়ির ওপর প্রমোটার শকুনের নজর পড়লে তাকে খুন করতে গিয়েও হাত নামিয়ে নেয় শুধুমাত্র মায়ের নির্দেশ কানে বাজতেই। মা অসুস্থ হলে তাঁর নোংরা পোশাক ধুয়ে-কেচে শুকোতে দিতেও দ্বিধা করে না সে। উইন্ডোজ প্রোডাকশনের ‘গোত্র’ ছবির গল্প মা-ছেলের এরকম টুকরো টুকরো অন্তরঙ্গ দৃশ্য জুড়েই। তবে কি গোবিন্দ ধমে শুধু কৃষ্ণ আর তাঁর মা যশোদার বাস?

মোটেও না এই ধামেও আছে কৃষ্ণের সখি আর মা যশোদা এর ডান হাত অর্থাৎ মুক্তিদেবীর ডান হাত ঝুমা পাল (মানালি মনীষা দে)। আর আছেন গোপালের নিত্যপুজোর পুরোহিত (অম্বরিশ ভট্টাচার্য)। অন্য দিকে আছেন একমাত্র ছেলে অণির্বাণের (সাহেব চট্টোপাধ্যায়),পুলিশ অফিসার বন্ধু (বাদশা মৈত্র), মুক্তি দেবীর ‘বয়ফ্রেন্ড’ সজল জ্যেঠু (সন্তু মুখোপাধ্যায়)। আর শকুন বাপি প্রোমোটার (খরাজ মুখোপাধ্যায়)। যে প্রোমোটারির জন্য দরকারে মুক্তিদেবীকে মেরে তাঁর গোবিন্দধামের দখল নিতে পারে। তবে গল্পে শুধু এই ক’জন? তবে শুনুন, আছে তারেক-ঝুমার, দুষ্টু-মিষ্টি প্রেম। মা-ছেলে-হবু বউমার ওড়িশা ভ্রমণ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সর্বধর্মসমন্বয়ের বার্তা। আরেক হিন্দুর উৎসবে মুসলিম তারেক আলির (নাইজেল আক্কারা) ভোগ পরিবেশন নিয়ে শকুন বাপির প্রতিবাদের বিরুদ্ধে পালিত ছেলের হয়ে আগ্রা শহরের হিন্দু-মুসলিমের একসঙ্গে জন্মাষ্টমী পালন। কোমর বেঁধে মুক্তিদেবীর আন্দোলন, এবং শেষে পালিত ছেলেকে মায়ের গোত্র দান….. নাহ! আর বললে আপনারা হলে গিয়ে দেখবেন না! সব মিলিয়ে নিখাদ মন ভালো করা ছবি ‘গোত্র’

এবার আসা যাক অভিনয়ের কথায়,
ছবিকে প্রাণবন্ত করার দায়িত্ব ছিল মানালির ওপর। সেটা ১০০ শতাংশ পালন করেছেন তিনি। তিনি আর নাইজেল যেন সত্যিই বাংলার অমিতাভ-জয়া! শকুন বাপির চরিত্রে কমিক আর ভিলেনের যুগলবন্দি কাকে বলে দেখিয়ে দিয়েছেন খরাজ। বাকিরা যথাযথ। দুটি পেপি সং-এ দুরন্ত বিশ্বনাথ বসু আর দেবলীনা কুমার ও ওম সাহানি। বাকি নাইজেল আক্কারা। সবাই যেখানে বাঘা অভিনেতা এবং নিয়মিত অভিনয় করেন সেখানে নাইজেল নিয়মিত লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের মধ্যে না থেকেও অ-সাধারণ।

বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপে, গানে, দৃশ্যায়নে, সমাজের প্রতি বার্তা ছড়িয়ে ফের উইন্ডোজ প্রমাণ করল ও শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটি প্রমাণ করল তাঁদের।

ছবি: গোত্র
পরিচালক: নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
অভিনয়: অনসূয়া মজুমদার, নাইজেল আক্কারা, মানালি মনীষা দে, খরাজ মুখোপাধ্যায়, সন্তু মুখোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, বাদশা মৈত্র, অম্বরীশ ভট্টাচার্য বিশ্বনাথ বসু, দেবলীনা কুমার
প্রযোজনা: উইন্ডোজ প্রোডাকশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here