মুখ্যমন্ত্রীর আগেই সেতু উদ্বোধন করে বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন মালদার জেলা সভাধিপতি

0
308
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইংরেজবাজার: উদ্বোধন করার কথা ছিল স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর। শিলান্যাসও করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই ভুতনি সেতুর উদ্বোধন করে বিতর্কে জড়ালেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল। তার এই ব্রিজ উদ্বোধনকে ঘিরে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ক্ষোভে ফুঁসছে তারই দলের লোকেরা। এক প্রকার চুপিসারেই ব্রিজ উদ্বোধন করায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রও। যদিও বিতর্ক ধামাচাপা দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন গৌড় মন্ডল।

মালদা জেলার প্রত্যন্ত এলাকা মানিকচক ব্লকের ভুতনি চরকে জেলার বাকি অংশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার জন্য ফুলহার নদীর ওপর প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা, ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া ভুতনি ব্রিজের কাজ প্রায় শেষের পথে। অপেক্ষা ছিল শুধু উদ্বোধনের। ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মানিকচকের তৃণমূল বিধায়ক তথা তৎকালীন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তখন ব্রিজটির শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও অনেক আগে কাজ সম্পূর্ণ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারনে তা সম্পূর্ণ হয়নি। তবে সম্প্রতি কাজ প্রায় শেষের পথে। মুখ্যমন্ত্রীর বহু আকাঙ্ক্ষিত এই ব্রিজটি উদ্বোধন করার কথা থাকলেও দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। কিন্তু তার আগেই একরকম চুপিসারে গত ১৫ আগাস্ট ফিতে কেটে উদ্বোধন করে দেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা মানিকচকেরই জেলা পরিষদ সদস্য গৌর চন্দ্র মন্ডল। এ ব্যাপারে দলেরই কাউকে জানানো প্রয়োজন বোধও করেননি তিনি বলে দলীয় সূত্রের খবর। ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্দ মানিকচকের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৎকালিন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র।

kolkata bengali news

এদিন বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই সাবিত্রী জানান, ‘আমি মানিকচকের বিধায়ক হওয়ার পর ওই ব্রিজ নির্মাণের কাজে উদ্যোগী হই। ভুতনির কয়েক লক্ষ্য মানুষের দীর্ঘকালের দাবী ছিল ওই ব্রিজ। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের টাকায় ব্রিজটি নির্মিত হয়েছে। মূল কাজ হয়ে গেলেও এখনো ফিনিশিংয়ের কাজ কিছু বাকি আছে। সেই কাজ হলেই মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। কিন্তু তার আগেই সভাধিপতি আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে ব্রিজটি উদ্বোধন করে দিলেন। আমি এ ব্যাপারে দলের জেলা পরিদর্শককে এবং রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’

সূত্রের খবর এর পরেই তৃণমূলের জেলা পরিদর্শক সাধন পান্ডের ফোন যায় গৌড়বাবুর কাছে। তিনি ফোনে সভাধিপতিকে বকাবকি করেন বলেও জানা যায়। তবে এ ব্যাপারে গৌরচন্দ্র মন্ডল সরাসরি কিছু না বললেও তার অনুগামীরা জানান, সেতুটি এখন ছোট গাড়ি যেমন বাইক ও ছোট চারচাকা যাওয়ার জন্য উদ্বোধন করা হয়েছে পরে প্রশাসনিকভাবে ব্রিজটি উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীই করবেন। তবে তার অনুগামীরা যতই সাফাই দিক না কেন এই ঘটনা ঘিরে সভাধিপতির ওপর যথেষ্ট ক্ষুব্দ দলের জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর আগামী বিধানসভায় মানিকচক কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে টিকিট জোগাড়ের চেষ্টা করছেন গৌর চন্দ্র মন্ডল। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এড়িয়ে মানুষের মন পেতে সেতুটি উদ্বোধন করে দেন তিনি। কিন্তু এর ফলে এখন দলেই যথেষ্ট বেকায়দায় পড়ে গেলেন সভাধিপতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here