আদালতে নির্দেশ সত্ত্বেও মহার্ঘ্য ভাতা ও বেতন কমিশন নিয়ে ধীরে চলো নীতি রাজ্যের

0
152

মহানগর ওয়েবডেস্ক: স্যাটের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে ধীরে চলো নীতি সরকারের। একই নীতি বেতন কমিশন নিয়েও। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল। কিন্তু স্যাটের রায় ঘোষণার পর প্রায় একমাস কেটে গেলেও ওই নির্দেশ কার্যকর করতে কোনো তৎপরতা নেই রাজ্য সরকারের। বরং রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং ষষ্ঠ বেতন কমিশনের রিপোর্ট নিয়েও ধীরে চলো নীতি নিয়েছে নবান্ন। এমনকি রাজ্য সরকারের তরফে ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে ওই রায়ের কপি ও এখনো সংগ্রহ করা হয়নি বলে রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির একাংশের অভিযোগ। এমত অবস্থায় স্যাট- এর ওই রায় আদৌ কার্যকর করা হবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে কর্মচারী মহলে।

গত ২৬ জুলাই মহার্ঘভাতার মামলার রায় ঘোষণা করেছিল রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল। সেই রায়ে স্পষ্ট বলা হয় রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রের হারে মহার্ঘ ভাতা না দেওয়া হলে তা বৈষম্যমূলক হবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার ফারাক প্রায় ২৯ শতাংশ। এই বৈষম্য ঘোচাতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নগদে বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় স্যাট। বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটানোর সময় সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। নতুন নীতি তৈরি করে আগামী ১ বছর অথবা ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগুর মধ্যে যেটি আগে হবে, তার মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, সম্ভবত স্যাটের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যেতে পারে রাজ্য সরকার৷ কিন্তু সেখানেও স্যাটের রায়ের কপি জমা দিতে হবে৷ কিন্তু রাজ্য সরকার এখনো পর্যন্ত সেই সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করেনি বলে অভিযোগ। যদিও প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানোর জন্য রাজ্যের হাতে তিনমাস সময় রয়েছে। শীর্ষ স্তর থেকেই এব্যাপারে ধীরে চল নীতি নিতে বলা হয়েছে। সে কারণেই কোন তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না।

অন্যদিকে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের রিপোর্ট নিয়েও একই রকমের নীতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারকে দায়ী করে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আবেদনক্রমে বেতন কমিশনের সময় বাড়ানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে কমিশneর কাজে গতি আনতে তিনি বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও অভিরূপবাবু বাড়তি সময় চাওয়ার কথা মানেননি। নবান্ন সূত্রে খবর, বেতন কমিশনের রিপোর্ট তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের অঙ্গুলিহেলনে তা জমা পড়ছে না। যদিও বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। সে ক্ষেত্রে মহার্ঘ ভাতা ও বাড়তি বেতন কবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দোলাচলে থাকতে হচ্ছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি-দাওয়ার না মিটলে ফের পথে নেমে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here