kolkata bengali news

Highlights

  • কিছু পরিবর্তন করে নতুন করে ওই নকশা তৈরি হবে
  • বিকল্প পথ চিৎপুর রেল ইয়ার্ড লেভেল ক্রসিং
  • ব্রিজের বেশিরভাগই রেলের অংশে। সেই অংশ রেল ভাঙবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: নতুন টালা ব্রিজের নকশা নিয়ে রেলের আপত্তির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার দুপক্ষের সমন্বয় ভিত্তিতে নতুন নকশা তৈরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধী, মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে যাতে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করা যায় তা নিশ্চিত করতে দুপক্ষের সমন্বয়ের জন্য রেল ও রাজ্যের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। পূর্ব রেলের কর্তাদের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিবের বৈঠকে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টালা ও মাঝেরহাট সেতু প্রকল্প নিয়ে জট কাটাতে বৃহস্পতিবার কলকাতায় পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্যের তরফে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, পূর্তসচিব নবীন প্রকাশ- সহ অফিসার ও ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন। রেলের তরফে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার সুনীত শর্মা, চিফ ইঞ্জিনিয়াররাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই নতুন টালা ব্রিজের নকশা কেমন হবে, তা জানান পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। নবান্ন সূত্রের খবর, রেলের ইঞ্জিনিয়াররা সেই নকশার কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের আপত্তি জানিয়েছেন। এরপরে ঠিক হয়, কিছু পরিবর্তন করে নতুন করে ওই নকশা তৈরি হবে। রেলের অনুমোদন নিয়েই তা করা হচ্ছে। রেলের অংশে ব্রিজ বা উড়ালপুলের কাজ করতে গেলে তাদের অনুমোদন ছাড়া করা সম্ভব নয়।

পাশাপাশি যানজট কমাতে টালা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রেল লাইনের ওপর একটি লেভেল ক্রসিং তৈরীর বিষয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, টালা ব্রিজ ভাঙার সময় গাড়ি যাতায়াতের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে চিৎপুর রেল ইয়ার্ড লেভেল ক্রসিং ব্যবহারে সম্মত হয়েছে রেল। নবান্ন সূত্রের খবর, লেভেল ক্রসিং তৈরির ব্যাপারে আপত্তি না করলেও রাজ্য সরকারকেই সেটি তৈরির খরচ বহন করতে হবে বলে রেলের তরফে জানানো হয়। এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে রাজ্য। এরপর নতুন নকশা নিয়ে ফের আলোচনা হবে দু’পক্ষের। তারপরই নতুন ব্রিজ তৈরির জন্য টেন্ডার ডাকা হবে। ব্রিজ তৈরির জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন ব্রিজ তৈরির জন্য রেল কোনও টাকা দেবে না। পুরো টাকাই দেবে রাজ্য। শুধু নতুন ব্রিজ নয়, বর্তমান ব্রিজ ভাঙার জন্য রেল ৩০ কোটি টাকা দাবি করেছে। সেই টাকাও দেবে রাজ্য। এই ব্রিজের বেশিরভাগই রেলের অংশে। সেই অংশ রেল ভাঙবে।

উল্লেখ্য, মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পর রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধুকতে থাকা সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে তৎপর হয় রাজ্য সরকার। একের পর এক সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর গলদ ধরা পড়ে টালা ব্রিজে। তদন্তকারীদের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ভেঙে ফেলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই টালা ব্রিজ বাঁচানোর। দীর্ঘ বৈঠকের পর সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ব্রিজ ভেঙে ফেলার। অবশেষে রেলের সঙ্গে বৈঠকের পর সে পথে আরও খানিক এগোল রাজ্যসরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here