news bengali

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের রাজ্যপালের নিশানায় রাজ্য সরকার। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে আক্রমণ করেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর। ‘মুখ্যমন্ত্রী কুমিরের কান্না কাঁদছেন’ এদিন তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর এই কান্না কৃষকদের ব্যথা উপশম করতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি। এদিন এ বিষয়ে পরপর তিনটে টুইট করেন রাজ্যপাল। সেই টুইটে রাজ্যের কৃষকদের বিভিন্ন সুবিধার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পেছনে রাজ্যের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে রাজ্যপাল লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কুমিরের কান্না কৃষকদের ব্যথা উপশম করতে পারবেন না।’ যদিও এর পরেও কৃষকদের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, এদিন প্রথম টুইটের সঙ্গে একটি চিঠি সংযুক্ত করে রাজ্যপাল লেখেন, ‘রাজ্য সরকারের গড়িমসি ও অকর্মণ্যতার জন্য ৭০ লক্ষ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধির সুবিধা পাননি। রাজ্য সরকার যদি যথা সময়ে উদ্যোগ নিত, তাহলে কৃষকদের জন্য আসত ৮৪ হাজার কোটি টাকা। প্রত্যেক কৃষক তা থেকে ১২ হাজার টাকা করে পেতন। এই প্রকল্পের পুরো খরচবহন করে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলে রাজ্য সরকারের ওপরে বাড়তি ব্যয়ভার চাপত না। এই প্রকল্পের ব্যাপারে গড়িমসিকরার কোনও কারণই থাকতে পারে না।’

রাজ্যপাল চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘সারা দেশের কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি থেকে সুবিধা পেয়েছেন। বঞ্চিত হয়েছেন কেবল পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা।’ চিঠির শেষে রাজ্যপাল উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা মনে করি, কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাঁরা যদি রাজ্য সরকারের অকর্মণ্যতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করা উচিত।’

উল্লেখ্য, মমতা—ধনকরের এই সম্পর্ক বর্তমানে সর্বজনবিদিত। এরআগেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কখনো প্রত্যক্ষ কখনো বা পরোক্ষভাবে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় প্রত্যেকদিনই রাজ্য- রাজ্যপালের সংঘাত শিরোনামে উঠেছে। সেই সংঘাতেই এবার আরেকটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here