news bengali

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা আবহের মধ্যেই ঝুলে রইল কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ। এখন ত্রাতার ভূমিকায় রয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সূত্রের খবর, রাজ্য চাইছে কলকাতা পুরনিগমের বর্তমান যে বোর্ড রয়েছে তার মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে দেওয়া হোক। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কিনা তা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে রাজ্যপালের ওপর। এদিকে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠায় এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

ভোট পিছিয়ে গেলে সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়তে চলেছে কলকাতা পুরসভা। এই আশঙ্কা প্রকাশ আগেই করেছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই আশঙ্কাকে সত্যি করেই পিছিয়ে যায় ভোট। এদিকে কলকাতা পুরসভার চলতি পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। রাজ্য চাইছে এই মেয়াদ এখন বাড়িয়ে দেওয়া হোক। কারণ বোর্ডের মেয়াদ বাড়লে পুরনিগমের ক্ষমতা বকলমে তৃণমূলের হাতেই থেকে যাবে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার মেয়াদ বাড়লে মেয়র পারিষদের পাশাপাশি ১৪৪ জন কাউন্সিলরেরও প্রশাসনিক ক্ষমতার মেয়াদও বাড়বে। সমান সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির নির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলররাও। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ না বাড়ানো হলে নানা প্রশাসনিক সমস্যা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পুরনিগমের নিত্যদিনের কাজেও অসুবিধা হবে। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়বেন শহরের বাসিন্দারা। ধাক্কা খাবে এই করোনা ও লকডাউনের আবহে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সেখানকার কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে চলা মাইক্রোপ্ল্যানিং টিমের কাজও।

সে ক্ষেত্রে মেয়াদ বাড়াতে গেলে আগামী ৭ মে’র মধ্যেই রাজ্যকে রাজ্যপালের সম্মতি নিয়েই অর্ডিন্যান্স জারি করতে হবে। এদিকে মেয়াদ তৃণমূলের কংগ্রেসের পোয়াবারো হলেও বিজেপির সেখানে আলাদা করে প্রাপ্তিযোগ কিছু থাকছে না। আবার রাজ্যপালও সেখানে কথায় কথায় কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এরফলেই মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন স্বয়ং রাজ্যপাল আর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এমনটাই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।

উল্লেখ্য, কলকাতা করপরেশন অ্যাক্ট ১৯৮০’র এর ১১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কলকাতা পুর প্রশাসন অদক্ষ হিসেবে প্রমাণিত, কাজের ক্ষেত্রে সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজ্য সরকার মনে করলে পুর প্রশাসনকে শোকজ করতে পারে। সেই শোকজের উত্তর দিতে হবে পুর প্রশাসনকে। তারপর যদি মনে করে, তাহলে কলকাতা পুর প্রশাসনকে ভেঙে দিয়ে ছ’মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে অথবা কোনও নির্দিষ্ট কমিটি দায়িত্ব নিতে পারবে।

যদিও ১১৮ ধারা অনুযায়ী কলকাতা পুর প্রশাসনের বোর্ড ভেঙে দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মেয়র এবং মেয়র পারিষদদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে। কলকাতা পুরসভার শীর্ষ আমলাদের কথায়, এই দু’টি ধারার কোনওটিই পুর প্রশাসনে আরোপ করা যাবে না। কারণ, কলকাতা পুর প্রশাসনের বোর্ড ভেঙেও দেওয়া হচ্ছে না অথবা সেটি অদক্ষ হিসেবেও প্রমাণিত হয়নি। তাই আইনে দু’টি ধারা থাকলেও এক্ষেত্রে তা লাগু হবে না। সেক্ষেত্রে অর্ডিন্যান্স এনে নতুন আইন করতে হবে। এবং সেই আইনকে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভায় পাশ করাতে হবে। যদিও এই প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ। এখন গোটা প্রক্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here