অ্যাম্বুলেন্স-বাথরুম থেকে জলের ব্যবস্থা, সব খরচাই চলছে অনশনকারীদের টাকায়

0
kolkata bengali news

রক্তিমা দাস: শুক্রবার ১২ দিনে পড়ল অবস্থানরত পার্শ্বশিক্ষক শিক্ষিকাদের অনশন। তাঁদের দাবি না মেটা পর্যন্ত শুধুমাত্র জল ও ওয়ারেস পান করে আমরন অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে প্রথম দিন থেকেই এই অনশনের সঙ্গে দুরত্ব বজায় রেখেছে রাজ্য সরকার। এমনকি অনশনকারীদের জলের ব্যবস্থা, অ্যামবুলেন্স ও শৌচাগার এই সবকিছুই খরচা চলছে অনশনকারীদের নিজেদের নিজের খরচে। তবে সরকার না এগিয়ে এলেও এগিয়ে এসেছেন সাধারণ জনগন। শুক্রবার এমনটাই জানান অনশনকারী পার্শ্বশিক্ষক মঞ্চের সদস্য শিক্ষক প্রদীপ কুমার দাস।

প্রদীপবাবু বলেন, অনশনকারীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই মহিলারা। এছাড়াও রয়েছে বয়স্কাও। কিন্তু তাদের জন্য কোনও রকম শৌচাগারের ব্যাবস্থা করা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। প্রথমে নিজেদের খরচেই ইউজ অ্যান্ড পে শৌচাগারে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিজেদের খরচে বায়োটয়েলেট তৈরী করেছেন অনশনকারীরা। এখানে যে অ্যাম্বুলেন্স গুলি রয়েছে সেগুলির খরচাও বহন করছে অনশনকারী পার্শ্বশিক্ষক মঞ্চ। এমনকি জলের জন্য পুরসভা থেকে যে ট্যাঙ্ক নিয়ে আসা হয়েছে সেগুলিও তারা নিজেদের টাকায় ভাড়া করেছে।

যদিও প্রদীপবাবু এদিন জানান, ‘সরকার না এলেও তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আমজনতা। অনশনে না বসেও অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা আন্দোলন সমর্থন করে এখানে এসে যুক্ত হয়েছেন। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থার করতে অনুদানের জন্য এগিয়ে আসে খোদ জনসাধারণ। নিজেদের ইচ্ছে ও সামর্থ অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই অনুদান দিচ্ছেন তাঁরা। সেই অনুদানে কোনও খিচুড়ি, কখনও বা এক তরকারি ভাত দিয়ে খাদ্যের জোগান করা হচ্ছে আন্দোলন সমর্থনকারীদের।’ প্রদীপবাবু জানাচ্ছেন এখনও পর্যন্ত অনুদান এসেছে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা।

অন্যদিকে অধিকারের দাবিতে পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন মঞ্চে দুর্ঘটনা ঘটছেই, তবু হুঁশ নেই সরকারের। শুক্রবার বেলা পর্যন্ত অনশন মঞ্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মোট ৪ জনকে। বৃহস্পতিবার অনশন মঞ্চেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সন্দেশখালি থেকে আসা অনশনকারী পার্শ্ব শিক্ষক তাপস বর। এরই মাঝে মৃত্যু হল আর এক অনশনকারী পার্শ্ব শিক্ষিকা রেবতী রাউতের। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের এই শিক্ষিকা মোহনপুর ব্লকের দক্ষিণ বোড়াই প্রাইমারি স্কুলে চাকুরিরত ছিলেন। এই আন্দোলন মঞ্চেই গুরতর অসুস্থ আরও ৫ জন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here