নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: প্রতিবেশীরা অজ্ঞাত ছিল গোটা বিষয়টি সম্পর্কে। আর তাদের অগোচরেই দিনের পর দিন চলছিল বেআইনি ড্রাগ হেরোইনের ব্যবসা । এবার সেই বেআইনি মাদক চোরাকারবারীর ব্যবসার পর্দা ফাঁস করলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। এই ঘটনায় বুধবার দুপুরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শান্তিনগর মধ্যপাড়া এলাকায় । বুধবার দুপুরে ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা চড়াও হয় অভিযুক্ত সরজিত সরকারের ভাড়া বাড়িতে । সেখানে সরজিতের স্ত্রী ও শালাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা । প্রতিবেশীরা সরজিতের বেআইনি মাদকের চোরা কারবারের ব্যবসার কথা জেনে ফেলায় মঙ্গলবার রাত থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনৈক দেবতোষ বিশ্বাসের বাড়ি দুই বছর আগে ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি নগর মধ্যপাড়া এলাকায় থাকতে শুরু করেছিল অভিযুক্ত সরজিত সরকার । সম্প্রতি ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার লোকজন খেয়াল করেন বিভিন্ন বাড়ির নাবালক স্কুল ও কলেজ ছাত্ররা মাদকাসক্ত হয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি ঢুকছে । ওই নাবালকদের অভিভাবকদের সন্দেহ হয়, এই মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই তবে লুকিয়ে কেউ অবৈধ মাদক চোরাকারবার চালাচ্ছে, যার প্রভাবে দূষিত হচ্ছে সমাজ ব্যাবস্থা । প্রতিবেশীরা খোঁজ খবর নিয়ে মঙ্গলবার রাতে জানতে পারে সরজিত বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই নিষিদ্ধ ড্রাগের চোরাকারবার চালাচ্ছে ।

খবর দেওয়া হয় টিটাগড় থানার পুলিশকে । ততক্ষনে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত সরজিত । পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে অন্ততঃ ৫০ প্যাকেট নিষিদ্ধ মাদক বা হেরোইন বাজেয়াপ্ত করে । সরজিতের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, স্বামীর চাপে সে দুই মেয়ে নিয়ে চুপ করে আছে। লক্ষাধিক টাকার ওই নিষিদ্ধ মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে টিটাগড় থানার পুলিশ । এদিকে বুধবার প্রতিবেশীরা সরজিতের স্ত্রী ও শ্যালকের ওপর চড়াও হয়ে তাদের হেনস্থা করেন এবং এলাকায় তাদের থাকতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয় । টিটাগড় থানার পুলিশ মাদক চোরাকারবারী সরজিত সরকারকে খুঁজছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here