ডেস্ক: রমজান শেষ হয়ে গেলেও অস্ত্রবিরতি থাকুক, এমনটাই চেয়েছিলেন জম্মু কাশ্মীরের পিডিপি মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি। কিন্তু কেন্দ্র কোনও ভাবেই অস্ত্রবিরতি রাখতে চায়নি। কারণ অস্ত্রবিরতি রেখেও তেমন কিছু লাভ হয়নি। উল্টে আরও বেড়েছে জঙ্গি হামলা। সেই কারণ সহ আরও একাধিক কারণে গতকাল জোট ভেঙে বেরিয়ে আসে বিজেপি সরকার। ফলে জম্মু কাশ্মীরের রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে লাগু হয় রাজ্যপাল শাসন। প্রাথমিকভাবে এতে সরকার পড়ে গেলেও আখেরে সেনায় লাভবান হবে। কারণ, এরপর সেখানে আর কোনও সরকার না থাকায় বাহ্যিক কোনও চাপ থাকবে না।

একই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও এখন আর কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না সেনাকে। তাদের হাতেই পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার। রাজনৈতিক চাপ না থাকার ফলে পুলিশ প্রশাসনও নিজের কাজ স্বাধীনভাবে করতে পারবে। কারণ, এতদিন পর্যন্ত স্থানীয় নেতাদের চাপে বিছিন্নতাবাদীদের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করতে হত প্রশাসনকে। কিন্তু রাজ্যপাল শাসন জারি থাকার ফলে এখনও কারও চাপে থাকতে হবে না। সার্বিকভাবে দেখতে গেলে আগের থেকে আরও বেশি ভালোভাবে জঙ্গি দমন করা যাবে, সর্বভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

একই সুরে সুর মিলিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও। তিনি বলেন, এবার উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও পাথরবাজরা আর রক্ষা পাবে না। পিডিপির সঙ্গে জোট ভাঙার বিষয়টি তিনি দেশের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বিজেপির সরকার ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করে না। উল্লেখ্য, গতকাল বিকেলেই জোট ভাঙার সরকারি ঘোষণা করেন বিজেপি নেতা রাম মাধব। এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্ফতা দেন মেহেবুবা মুফতি। গতকাল থেকেই রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে সেখানে জারি করা হয় রাজ্যপাল শাসন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here