kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুলিশ একশো আশি ডিগ্রি ঘুরতে বাধ্য হল। বৃহস্পতিবার বারাসত জেলা পুলিশ রীতিমতো ঘটা করে সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিল স্রেফ পরিবারের ভাসিয়ে দেওয়া তত্ত্বে বিশ্বাস করে ঘোল খেতে হয়েছে তাদের। পুলিশ জানিয়েছে হাবড়ায় দম্পতি খুনে যাকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেই ব্যক্তি আদৌ খুনের সঙ্গে জড়িত নয়। উল্লেখ্য,  হাবড়ার টুনিঘাটায় রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও লীলা মণ্ডল হত্যাকাণ্ডে প্রথমে ভাইঝি জামাই তন্ময় বরকে গ্রেফতার করলেও আদতে সম্পত্তির লোভে সুপারি কিলার দিয়ে শ্বশুর ও শাশুড়িকে খুন করিয়েছে জামাই বান্টি সাধু। পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে জানাল, হাবড়ায় দম্পতি খুনে নয়া মোড় উদ্ঘাটিত। পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার নিহত দম্পতির জামাই বান্টি সাধু এবং এক সুপারি কিলার অজয় দাস।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বারাসতের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, পুলিশ নিহত দম্পতির পরিবারের ভাসানো তত্ত্ব ও বিভিন্ন সূত্রে বিভ্রান্ত হয়েছিল। এর মূলে ষড়যন্ত্রী হিসেবে আছে বান্টি। পুলিশ জানিয়েছে,  বান্টি সাধু নিহত দম্পতির জামাই। নিজের সম্পর্কিত ভায়রা ভাই তন্ময়ের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পুলিশকে ভুল পথে চালিত করতে সক্ষম হয় বান্টি। ফলে গ্রেফতার হয়ে আদালতের নির্দেশে ১৪দিনের পুলিশি হেফাজত হয় খুনের সঙ্গে যোগসূত্র না থাকা তন্ময়ের। পুলিশ অবশেষে জানাচ্ছে,  দশ লাখ টাকা দিয়ে বান্টি জোড়া খুনে কাজে লাগায় পেশাদার খুনি অজয়কে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে হাবড়ার টুনিঘাটা গ্রামে খুন হন রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও লীলা মণ্ডল। এই খুনের ঘটনায় ভাইঝি তন্ময় বরকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেফতারও করে। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, তন্ময় বরের থিতু না হওয়া দাম্পত্য জীবনের ক্রোধের শিকার হয়ে খুন হতে হয়েছিল ওই দম্পতিকে। এখন পুলিশই জানাচ্ছে, আট লাখ টাকা দেনার দায়ে জর্জরিত বান্টি দশ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনিকে ভাড়া করে খুন করেছে শ্বশুর-শাশুড়িকে।

পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নিয়ে তন্ময়কে দীর্ঘ জেরা করে। বুঝতে পারে  ঘটনার সঙ্গে তন্ময়ের কোনও যোগসূত্র নেই। তারপরই পুলিশ নিহত দম্পতির পরিবারের দিকে নজর দেয়। রামকৃষ্ণ ও লীলার ছোট জামাই বান্টির আচরণে পুলিশের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় বান্টি জোড়া খুনে জড়িত। লাগাতার জেরায় স্বীকার করে নেয় শ্বশুর-শাশুড়িকে সুপারি কিলার দিয়ে সে-ই খুন করেছে। হাবড়ার জয়গাছির বাসিন্দা অজয় দাসকে ১০ লক্ষ টাকা চুক্তিতে নিয়োগ করেছিল বান্টি। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে অজয় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে রামকৃষ্ণবাবু ও লীলাদেবীকে গুলি করে খুন করেছিল। সেদিন বান্টি শ্বশুরবাড়িতেই ছিল।

পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এফআইআর-এ নাম থাকায় আমরা তন্ময় বর নামে এক যুবককে প্রথমে গ্রেফতার করেছিলাম। কিন্তু পরে নিশ্চিত হই, সে এই খুনে জড়িত নয়। তারপর তদন্তে জানতে পারি, নিহত দম্পতির জামাই বান্টিই এই খুনের মূল চক্রী। ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে সুপারি কিলার ব্যবহার করে শ্বশুর-শাশুড়িকে খুন করেছে। মূলত সম্পত্তির লোভেই সে এই খুন করে। খুনে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তন্ময়কে এই মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আইনি নিয়ম অনুসারে আদালতে আবেদন জানানো হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here