ঋদ্ধীশ দত্ত: তিনি নিজে যুদ্ধ জয় করেছিলেন আগেই। এবার বাকি যোদ্ধাদের জন্য ‘অস্ত্র’ তুলে দিলেন চিকিৎসকদের হাতে। কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর নিজে তো সুস্থ হয়ে উঠলেনই, পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম প্লাজমা ডোনার হিসেবেও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় তুলে ফেললেন হাবড়ার তরুণী মনামী বিশ্বাস।

মার্চ মাসে স্কটল্যান্ড থেকে ফিরে রাজ্যের দ্বিতীয় করোনা পজিটিভ হিসেবে ধরা পড়ার পর থেকেই লড়াইটা শুরু হয়েছিল মনামীর। দীর্ঘ কয়েকদিন বেলেঘাটা আইডি-তে চিকিৎসার পর করোনা-মুক্তও হন। প্রথম অধ্যায়ে জয়ী হয়ে এবার পরবর্তী অধ্যায়ে বাকি যারা করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন তাদের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। বুধবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাজ্যে প্রথম প্লাজমা দান করলেন মনামী। প্লাজমা দানের ছবি ও সম্পূর্ণ বিবরণ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলেই শেয়ার করেছেন মনামী। যেখানে জানিয়েছেন, স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁকে প্লাজমা দানের জন্য ফিট বলে চিকিৎসকরা জানান। এবং শেষ পর্যন্ত গতকাল বহু প্রতীক্ষিত সেই দান করতে সক্ষম হন মনামী।

প্লাজমা দানের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি লিখেছেন নিজের পোস্টে। মনামীর কথায়, রক্তদান করার মতোই সহজে প্লাজমাও দান করা সম্ভব। কেবল একটা সূঁচের মাধ্যমেই রক্ত নেওয়া হয়। যা একটি নলের মাধ্যমে গিয়ে একটি মেশিনে জমা হয়। সেই মেশিন রক্তের থেকে প্লাজমাকে আলাদা করে দেয়। তিনি মোট ৫০০ মিলিলিটার প্লাজমা দেন বলে জানিয়েছেন মনামী। যেই পরিমাণ প্লাজমা শরীর থেকে বের হচ্ছে তা পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তৈরি হয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

শতাব্দী প্রাচীন এই প্লাজমা থেরাপি অবশ্য আগাগোড়াই কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। ইতিমধ্যেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীরা নিজেদের প্লাজমা দান করা শুরু করেছেন। সুস্থ রোগীর রক্তের প্লাজমা অসুস্থ রোগীর শরীরে দেওয়াই হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি। এতে সুস্থ রোগীর শরীরে থাকা অ্যান্টিবডি অসুস্থ শরীরে ঢুকে সেখানেও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে পারে এবং অ্যান্টিবডির জন্ম দিতে পারে। ভ্যাকসিন না আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত এই প্লাজমা থেরাপির ভরসায় রয়েছে চিকিৎসক মহল। তবে এই পদ্ধতি একপ্রকার পরীক্ষা মাত্র, সব ক্ষেত্রে তা কার্যকর নয়। মনে করা হচ্ছে, মনামীর প্লাজমা ব্যবহার করেই পশ্চিমবঙ্গেও এবার প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল শুরু করা হতে পারে।

করোনা ভাইরাস যে সহজে আমাদের ছেড়ে যাওয়ার নয় তা বুঝতে আর কারও বাকি নেই। ফলে আট থেকে আশি, সবাইকেই সাবধান থাকা ও নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলার দিকে নজর দিতে বলছেন চিকিৎসকরা। যারা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছেন এবং ফিরে এসেছেন, তাদের উদ্দেশে মনামীর বার্তা, ‘একেবারে প্যানিক করবেন না। শুধু ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মেনে চলুন। ভালো খাবার খান, সুস্থ থাকুন এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বাঁচুন।’

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here