মহানগর ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে আকালি দলের একমাত্র মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদল কৃষি অর্ডিন্যান্সের প্রতিবাদে পদত্যাগ করায় রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে হরিয়ানায় বিজেপি’র জোটসঙ্গী জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি)–র ওপর। এই দলের সঙ্গে জোট বেঁধেই বিজেপি হরিয়ানায় সরকার গঠন করেছে। বিরোধীরা এই অর্ডিন্যান্সের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে জেজেপি’র কাছে। কংগ্রেসের রণদীপ সিং সুরজওয়ালা টুইট করে দলের নেতা ও হরিয়ানার উপ মুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌতালাকে বলেছেন, ‘’দুষ্মন্তজি, আপনারও উচিত হরসিমরত কৌর বাদলের পথ অনুসরণ করে উপ মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদ ত্যাগ করা। কুর্সির থেকে আপনি কৃষকদের সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত…।‘’

আকালি দলের মতোই জেজেপি’রও সমর্থনের মূল ভিত্তি কৃষি ক্ষেত্রেই। এছাড়াও তাদের শীর্ষ নেতারা পারিবারিক সম্পর্কেও জড়িত। এই কৃষি বিলের বিরোধিতা করার সময় আকালি দলের সুখবির সিং বাদল দুষ্মন্ত সিং চৌতালার প্রপিতামহ দেবীলাল’কে সর্বোত্তম কৃষক নেতা বলে উল্লেখ করেছেন। এমন কথাও শোনা যায়, জেজেপি ও বিজেপি’র গাঁটছড়া বাঁধতে বাদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

কৃষি বিলের বিরুদ্ধে হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভ শুরু হলে জেজেপি’র তরফে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, বিরোধী দলই কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। গত সপ্তাহে কুরুক্ষেত্র জেলায় কৃষকদের বিক্ষোভ সমবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ জেজেপি’র ওপর প্রবল রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে। বেশ কিছু কৃষক লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন এবং বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

এই ঘটনার পর দুষ্মন্ত চৌতালা ঘরে বাইরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দলেরই কিছু বিধায়ক ইতিমধ্যেই তার নেতৃত্বের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। জেজেপি’র এক বিধায়ক দেবেন্দর বাবলি দলের নেতৃত্বের বদল চেয়ে প্রকাশ্যেই বলে দিয়েছেন, ‘’দলের ১০ জন বিধায়কের অধিকাংশের মধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।‘’ গত সপ্তাহেই এই বিধায়কের একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে যেখানে সরকারি কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিধায়ক গুরুতর কিছু অভিযোগ তোলেন।

কৃষক বিক্ষোভের ওপর লাঠিচার্জের তদন্ত হবে বলে দুষ্মন্ত চৌতালা জানালেও হরিযানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কুরুক্ষেত্রে কৃষকদের ওপর কোনও লাঠিচার্জ হয়নি। মন্ত্রী অনিল ভিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘’ কৃষকদের ওপর কোনও পুলিশ লাঠি চালায়নি।‘’ রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা আন্দাজ করে জেজেপি’র পক্ষ থেকে কৃষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এবং জানিয়ে দেওয়া হয় জেজেপি’র কাছে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং দল সবসময়ই কৃষকদের সঙ্গেই থাকবে।

এখনও পর্যন্ত দুষ্মন্ত চৌতালা কৃষি অর্ডিন্যান্সের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। যদিও এই অর্ডিন্যান্সকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে প্রবল অসন্তোষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে আকালি দলের হরসিমরত কৌর বাদলের পদত্যাগ নিঃসন্দেহে উপ মুখ্যমন্ত্রীর ওপর প্রবল চাপ তৈরি করল। বাদলের পথে হেঁটে দেবীলালের প্রপৌত্র কৃষক বান্ধব ভাবমূর্তি বজায় রাখবেন নাকি সরকারে থেকেই অন্য কোনও পদ্ধতিতে তার সমর্থন ভিত্তি বজায় রাখবেন সেটি দেখার জন্য হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here