ranjan gogoi

মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাম মন্দিরের ঐতিহাসিক রায় হোক, বা বহু বিতর্কের কেন্দ্রের থাকা এনআরসি। সব মামলার রায়দানের মাধ্যমেই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অনেকাংশে ‘ফায়দা’ পৌঁছে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সোমবারই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনিত করেছেন খোদ রামনাথ কোবিন্দ। তাঁর এহেন পদক্ষেপকে অনেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে দেখছেন। শুধু তো ওই দুই রায় নয়, রাফাল দুর্নীতির অভিযোগে সরকারকে ক্লিনচিট দেওয়া হোক বা বিচারপতি লোয়ার খুনের কেস বন্ধ করে দেওয়া। নিজের একাধিক রায়ে সরকার ও একটি দলের চোখের মণি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ফলে তাঁর সতীর্থ বিচারপতিরাও অনুমান করেছিলেন, সরকারের কাছে থেকে উপঢৌকন পেতে পারেন গগৈ। তবে এটা যে এত তাড়াতাড়ি হবে, তা অকল্পনীয় ছিল।

রঞ্জন গগৈকে রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সুপ্রিম কোর্টে তাঁর সতীর্থ বিচারপতি মদন লকুর। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিচারপতি গগৈ সম্মানস্বরূপ কী পেতে পারেন তা নিয়ে অনেক জল্পনাই চলেছিল একটা সময়। ফলে তাঁর রাজ্যসভায় মনোনয়ন কোনও চমক ছিল না। তবে এত তাড়াতাড়ি হবে এটা ভাবনার বাইরে ছিল।’ কেন্দ্রীয় সরকার তথা রাষ্ট্রপতির এই পদক্ষেপই যে বিচার ব্যবস্থার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে সেটাও স্পষ্ট করে বলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন লকুর। তাঁর কথায়, ‘এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করে দিচ্ছে। শেষ দুর্গটাও কি ভেঙে গেল?’

২০১৮ সালে নজিরবিহীনভাবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুখ খুলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি। তাঁদের মধ্যে রঞ্জন গগৈ ছাড়াও ছিলেন এই মদন লকুর। এছাড়াও ছিলেন জে চেলামেশ্বর এবং কুরিয়ান জোসেফ। ইতিহাসে অন্যতম বিস্ফোরক এবং নজিরবিহীন সাংবাদিক বৈঠক মারাত্মক একটি সন্দেহও তুলে দিয়েছিল। তা হল, সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। পরবর্তীকালে যদিও সরকারের হস্তক্ষেপ কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন বিরোধীরা। তবে মদন লকুর এই নিয়ে মুখ খুললেও বাকি বিচারপতিরা কিছু বলেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here