মহানগর ডেস্ক: রান্নায় ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো লবণ ।মানবদেহের খনিজ উপাদানের চাহিদা বা ঘাটতি মেটাতে লবণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে অতিরিক্ত লবণ সেবনের ফলে দেখা যায় বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। বর্তমানে অনেকেই অতিরিক্ত লবণ সেবনের জন্য বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতেই ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসচেতনদের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়েছে লবণ। যদিও এই লবণ সেবনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করলেন খ্যাতিমান নিউট্রিশনিস্ট রুজুতা দিভেকার ।ইনস্টাগ্রামে তার সাম্প্রতিক একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন,লবণের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে না দিয়ে বরং লবণের বৈচিত্র ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এই বৈচিত্র্য ফেরাতে গেলে জেনে নিতে হবে বিভিন্ন প্রকারের লবণ সম্পর্কে। 

আয়ুর্বেদ অনুসারে আমাদের জিভ ছয় প্রকার স্বাদ গ্রহণ করতে পারে – মিষ্টি – তেতো, টক, কষাটে, ঝাল এবং নোনতা । এর মধ্যে নোনতা অর্থাৎ লবণ দেহের ভারসাম্য রক্ষার করে এবং বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে।ফলে আদিকাল থেকেই রান্নায় ব্যাবহার হয়ে আসছে বিভিন্ন প্রকার লবণ । সাধারণত সন্ধভ, সমুদ্র, সুভার্চালা, ভিডা, রমোকা এই পাঁচ রকমের লবণ ব্যাবহৃত হয়। নিউট্রিসনিস্টের মতামত অনুযায়ী উপরোক্ত পাঁচ প্রকার লবণ স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী এগুলো রোজকার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত। এই লবণ গুলি

– স্নায়ু শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে।
– দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।
– খাবার হজম করতে সাহায্য করে
– ফোলাভাব এবং মাসেল ক্রাম্প কম করে এ ছাড়াও এই লবণ গুলির আলাদা করে প্রচুর গুনাগুন রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

সৈন্ধব লবণ

সৈন্ধব লবণ – এটি একটি খনিজ লবণ। এই লবণে অশুদ্ধ অবস্থায় আয়রন অক্সাইড থাকে ফলে লবণটির রং সামান্য লালচে হয়। এই লবণ ঠান্ডা লাগা , জ্বর, ফ্লু- র থেকে শরীরকে রক্ষা করে ।এই লবণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে ফলে রক্তচাপ কম হয়, এতে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কম হয়।

সামুদ্রিক লবণ

সামুদ্রিক লবণ – সমুদ্রের লবণাক্ত জল থেকে এই লবণ তৈরি হয়। এই লবণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। ডি হাইড্রেশন প্রতিরোধ করে।

ব্ল্যাক সল্ট

সুভার্চলা লবণ – এটিকে সুভর্চাল লবণ বা ব্ল্যাক সল্ট অর্থাৎ যাকে বলা হয় বিট লবণ । প্রাচীন চিকিৎসায় এই লবণ অত্যন্ত ব্যাবহার হতো । এই লবণ ব্যাবহারের ফলে রক্তচলাচল ভালো থাকে ।

ভিডা এবং রামোকা লবণ – এই লবণ মূলত থেরাপি অর্থাৎ চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাবহৃত হয় ।

উল্লেখ্য, লবণ মানবদেহে অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান, কাজেই খাদ্যতালিকা থেকে লবণ একেবারে বাদ না দিয়ে বৈচিত্র্য পূর্ণ ভাবে লবণ ব্যাবহার করা উচিত। স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে উপরোক্ত লবণ গুলির মধ্যে কমপক্ষে অন্তত চার রকমের লবণ রোজকার ডায়েটে রাখা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here