শিক্ষকদের অনশন মঞ্চে উপস্থিত খুদেরা, তবু পাশের জঞ্জাল খুঁজে পেল না পুরসভার ড্রোন

0
kolkata bengali news

রক্তিমা দাস: বিকাশভবনের সামনে স্থায়িত্বকরণ সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন পার্শ্বশিক্ষক শিক্ষিকারা। এছাড়াও এমন অনেকেই রয়েছেন যারা সরাসরি অনশনে যোগ দেননি ঠিকই, কিন্তু অনশনকারীদের পাশে বসে সহযোগিতা করে গিয়েছেন প্রথমদিন থেকেই। সঙ্গে রয়েছে তাদের পরিবারের খুদেরাও। কিন্তু লোকবল না থাকাতেই সঙ্গে করে আনতে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে অনশনকারীদের আশেপাশে যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে তা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। শিশুদের পক্ষে তা আরও মারাত্মক।

এবিষয়ে আন্দোলন সমর্থনকারী এক শিক্ষিকা সীমা নাকড়া জানান, তাঁর সঙ্গে রয়েছে ৪ বছরের সন্তান। বাড়িতে দেখার কেউ না থাকায় সঙ্গেই আনতে হয়েছে ওই খুদেকে। এদিকে যেখানে তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তার পাশেই রয়েছে জঞ্জালের স্তুপ। যা থেকে উৎপাত হচ্ছে মশার। সীমার কথায়, ডেঙ্গু অভিযান নামেই হচ্ছে। আসলে রাজ্যবাসীর দিকে নজর নেই মুখ্যমন্ত্রীর, তাহলে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরে থাকতে হত না তাদের।

কিন্তু এত ছোট বাচ্চা নিয়ে এতদূর কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে সীমা বলেন, এই আন্দোলন কোনও একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার লড়াই নয়, এই আন্দোলন সারা রাজ্যবাসীর। কারণ, শিক্ষক শিক্ষিকাদের নায্য দাবি না মিটিয়ে তাদের অপমান করেছে রাজ্য সরকার। আর শিক্ষকদের অপমান মানে রাজ্যের অপমান।

অনশনকারী এক শিক্ষক অমল রায় জানান, প্রথমদিন থেকেই এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রয়েছেন তারা। পুরসভাকে এবিষয়ে বারবার বলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গেই রয়েছে তাদের কিছু সমর্থনকারী বন্ধু শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। তেমনই একজনের সঙ্গে রয়েছে ৭ বছরের এক শিশু কন্যা। বাড়িতে বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কেউই নেই দেখার। অগত্যা সঙ্গেই আনতে হয়েছে তাকে। এদিকে মশা ছাড়াও অন্যান্য পোকামাকড়ের কামড়ে নাজেহাল হচ্ছে শিশুরা।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারই মশা মারতে ড্রোন আনিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ট্রায়াল রান আগেই হয়েছিল। শহরে ডেঙ্গু সহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ড্রোন ব্যবহার শুরু করে কলকাতা পুরসভা। যদিও বিকাশভবনের সামনে এই জঞ্জাল অধরাই থেকে গেল পুরসভার ড্রোনের চোখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here