ডেস্ক: পঞ্চায়েতের মনোনয়নকে ঘিরে ফের বাড়ল জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিকে হাতিয়ার করে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয় বিজেপি। হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের বেঞ্চে সেই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ দিল আদালত। অন্যদিকে, এই একই ইস্যুতে সুপ্রিমকোর্টেও মামলা দায়ের করেছে বিজেপি। আগামীকাল সকাল ১০ টায় সুপ্রিমকোর্টে রয়েছে সেই মামলার শুনানি।

নির্বাচন কমিশনের তরফে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষণার পর মনোনয়নকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে তার জেরে গতকাল রাতে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন যেখানে বলা হয়, ৯ তারিখ সোমবার যেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল তা আরও একদিন বাড়াবে কমিশন। অর্থাৎ ১০ তারিখও মনোনয়ন জমা দিতে পারবে প্রার্থীরা। এর ঠিক পরেই মঙ্গলবার সকালে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন যেখানে আইনের কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে আগের বিগপ্তি বাতিল করা হয়। অর্থাৎ মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন বাড়ানো হবে না বলে জানায় কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই পাল্টি খাওয়া নিয়ে সরব হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যায় বিজেপি। সেই মামলাতে এদিন নির্বাচন কমিশনের নতুন জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, মনোনয়ন জমাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্রমাগত হিংসার প্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্ত হয়েছিল বিজেপি। সেই মামলায় গতকালই রায় দেয় শীর্ষ আদালত। যেখানে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত রকম ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। এবিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। একইসঙ্গে ইচ্ছুক প্রার্থীদের ভোটে লড়ার ব্যবস্থা করার দেওয়া হয় নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে। সেই শুনানির প্রেক্ষিতে গতকাল রাতে মনোনয়নের জমা দেওয়ার জন্য এক দিন বাড়ায় কমিশন পরে ফের সেই বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয় আইনত সমস্যার অজুহাতে। এরপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, যেখানে নির্বাচন কমিশনকে ভোট করানোর জন্য সবরকম ক্ষমতা দিয়েছে সুপ্রিকোর্ট সেখানে কিভাবে আইনের অজুহাত দেয় কমিশন। এরপরই কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের বেঞ্চ।

অন্যদিকে, এক দিন সময়সীমা বাড়িয়েও ফের নির্দেশ বাতিল করায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে সিপিএম। বিক্ষোভ হঠাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় সিপিএম কর্মীদের। কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। এদিকে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘কমিশনের এই ডিগবাজির নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের শাসকদলের চার মন্ত্রীর ভূমিকা। নাম প্রকাশ না করেই তিনি অভিযোগ করেন, ওই চার মন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্র সিংয়ের বাড়িতে যান। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ওই সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ বাতিল করতে বাধ্য হন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here