corona news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে উদ্ধার পেতে একটি প্ল্যান বি নিয়ে সম্প্রতি জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। সেই প্ল্যান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুনতে খারাপ লাগা, ও রাগ হওয়ার মতো। তবে দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন যেখানে কোনও বিকল্প নয় তখন একেই না পথ হিসেবে বেছে নিতে হয়, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। সেই প্ল্যান বি হল, সংক্রমণের ভয়ের তোয়াক্কা না করেই স্বাভাবিক জীবন বাঁচা এবং উপভোগ করা। এতে কার্যত পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। তবে এই বিকল্প নিয়েও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই বিকল্পের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার আগে বুঝতে হবে এই পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিক কী করতে চাওয়া হচ্ছে।

একটা কঠিন বাস্তব সম্পর্কে সকলেই ওয়াকিবহাল, লকডাউন ও সোশ্যাল ডিস্ট্যাংসিং চিরকালের জন্য পালন করা সম্ভব নয়। এখনও পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ বিশ্বের নিরিখে বিশেষ কমে আসার লক্ষণ দেখায়নি। কমপক্ষে ভ্যাকসিন যতদিন না আসছে ততদিন ভয় তো রয়েছেই। তাহলে ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কি লকডাউন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে? উত্তরটা হচ্ছে না, কখনই নয়। সেটা হলে এই রোগের থেকেও বেশি মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবেন। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। যেটা করা সম্ভব না।

সেই কারণে যতদিন পর্যন্ত না ভ্যাকসিনের আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তত্ত্ব কিছুটা আশা জাগাচ্ছে। এটাই প্ল্যান বি। এই পদ্ধতির পরিকল্পনা হল, সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হোক স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য। এতে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটবে মারাত্মক ভাবে। যার ফলে মানুষের মধ্যে পাল্লা দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে ভাইরাসের ক্ষমতা হ্রাস পাবে। একবার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গেলে তখন আর প্রাণঘাতী রূপ থাকবে না করোনার। কিন্তু এই পন্থায় ঝুঁকি এতটাই বেশি বিজ্ঞানীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে রয়েছেন এই বিকল্প নিয়ে।

বিজ্ঞানীদের একাংশ এই পথে হাঁটার বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, যদি সবাইকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে বয়স্ক এবং নানা ধরনের রোগে ভোগা মানুষদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার সমান হবে। আর যদি তা না করা হয় তবে অর্থনীতিকে বলি দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-ও এই পদ্ধতির সমালোচনা করেছে। উদাহরণস্বরূপ সুইডেনের কথা বলা যেতে পারে। সেখানে লকডাউন করা হয়নি। প্রতিবেশী দেশের তুলনায় সেখানে মৃত্যু বেশি হলেও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সেই দেশে কম মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here