ডেস্ক: হাইকোর্ট আর পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিষয় নাক গলাবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত কমিশনকেই নিতে হবে। তবে, ভাঙড়ের যে অঞ্চলে বিরোধীদের ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা করা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেই প্রার্থীরা হোয়াটস অ্যাপে মনোনয়ন জমা করতে পারবে, নির্দেশ হাইকোর্টের।

ফলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সিঙ্গল বেঞ্চে পঞ্চায়েত মামলার যার কোনও জটিলতা থাকল না, সুতরাং নতুন করে সময়া তৈরি না হলে আজই পঞ্চায়েত ভোটের নয়া নির্ঘন্ট কমিশন যে প্রকাশ করতে চলছে তা কার্যত নিশ্চিত। সোমবার মনোনয়ন জমার যে নতুন দিন ছিল সেখানে জেলা থেকে ভুরিভুরি সন্ত্রাসের অভিযোগ এসেছে। শুধু তাই নয় সোমবার মনোনয়ন জমার দিন সকাল থেকে বিভিন্ন জেলায় প্রবল অশান্তির ছবি ধরা পড়েছে। বীরভূম থেকে শুরু করে বাঁকুড়া, কিংবা দুই ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে নদীয়া। সর্বত্রই ব্যাপক সন্ত্রাস দেখা গিয়েছে। যেখানে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তারপরই কংগ্রেস, বিজেপি, বামেরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে দেয়, যার শুনানি ছিল মঙ্গলবার সকালে। এদিন সকাল থেকে সব পক্ষের সওয়াল জবাবে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

প্রথমেই সিপিএমের আইজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মনোনয়নের সন্ত্রাসের পেপার কাটিং তুলে ধরেন বিচারপতি তালুক দারের সামনে। তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝান, যে অশান্তির ছবি রাজ্যে দেখা গিয়েছে তাতে কোনও ভাবেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পঞ্চায়েত ভোট সম্ভব নয়। তাই হাইকোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ব্যবস্থা নিক। পাশাপাশি বিকাশবাবু ভাঙড়ে জমিরক্ষা কমিটির যে ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে সমস্যা দেখা গিয়েছিল তা সমাধানের জন্য সওয়াল করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই ৯ প্রার্থীর মনোনয়নকে মান্যতা দিতে হবে কমিশনের, নতুবা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোট স্থগিত রাখা হবে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নতুন মনোনয়নের বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, আইনের তোয়াক্কা না করেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন নির্বাচন কমিশন। তাড়াহুড়ো করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। যদিও তাদের এই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি তালুকদার।

বিজেপির আইনজীবী প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন নির্বাচনের কমিশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কীভাবে একজন সরকারি আধিকারিক মনোনয়ন ইস্যুতে কথা বলতে পারেন? সুতরাং কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তি অবৈধ। তাদেরও আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

শাসকদল তৃণমূলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতিয়ার ছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ‘ভাষা’-র প্রয়োগ করছেন তাতে উত্তেজনা বাড়ছে। সুতরাং হাইকোর্টের এই বিষয়টির দিকেও স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নজর দেওয়া উচিত।

তবে সুব্রত তালুকদারের সিঙ্গল বেঞ্চের এদিনের নির্দেশে যে রাজ্য সরকার এবং শাসকদল তৃণমূল অনেকটাই স্বস্তি পেল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি কংগ্রেস ও বিজেপির আর্জি আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ায় অ্যাডভান্টেজ নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে শুনানি শেষে কমিশন ও নবান্নের মধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি সৌরভ দাস আদালতে শুনানি শেষের পরই তড়িঘড়ি কমিশনে গিয়ে আলোচনায় বসেন। এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের নতুন নির্ঘন্ট প্রকাশ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।

সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন চাইছে ভোট হোক ১৫ ও ১৭ মে। আর রাজ্য সরকার চাইছে ১৪ ও ১৬ মে। তবে যা খবর, তাতে কমিশনের ইচ্ছেটাই মান্যতা পেতে পারে। গণনা হতে পারে ১৮ অথবা ১৯ মে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here