নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: তিরিশ বছর আগে স্বপ্নাদেশে কালীপুজোর নির্দেশ পেয়েছিলেন তান্ত্রিক নারায়ন দেবনাথ। সেই শুরু, তারপর থেকে প্রতি বছর বসন্তে শিবরাত্রির পরেরদিন থেকে ৫ গ্রামের মানুষের কাছ থেকে পুজো পান ২৮ হাতের কালী, ৩২ হাতের শিব। এবছরেও তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে না, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয়েছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বংশীহারি ব্লকের কুশকারী গ্রামের কালীপুজো। প্রচলিত বিশ্বাস এটাই উত্তরবঙ্গের সব থেকে বৃহৎ উচ্চতার কালীপুজো। এখন এই পুজোকে ঘিরেই হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেই নেমে এসেছে উৎসবের আমেজ।

স্বপ্নাদেশ পেয়ে যে কালীপুজোর সূচনা হয়েছিল তিন দশক পেরিয়ে সেই পুজোর দায়িত্বে এখন পাঁচটি গ্রামের ৫০জন হিন্দু-মুসলিম সদস্যের হাতে। কুশকারী, গোবিন্দপুর, হটাৎপাড়া, কল্যাণী ও খানপুরের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এক সঙ্গে এই পুজোতে অংশগ্রহন করেন। পুজোর খরচ তারাই বহন করেন। ১৫ দিন ধরে এই পুজো চলার পাশাপাশি চলবে মেলাও। ইতিমধ্যেই সেই মেলা বসেও গেছে। দূরদূরান্ত থেকে এসেছে মেলার দোকানপাঠ। বসেছে নাগরদোলা, সার্কাস, ম্যাজিক সহ একাধিক মনোহারি দোকানও। পুজোকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢল নেমেছে ভক্তদের। সবাই যে শুধু এই পাঁচ গ্রামেরই মানুষ তা নয়, অনেকেই এসেছেন বহু দূর দূর থেকে।

কালীপুজোর কর্মকর্তা সম্পাদক তাপস দাস জানালেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ এই কালীপূজো করে আসছি। শিবরাত্রির পরের দিন আমরা ২৮ হাত কালী ও ৩২ হাত শিবের পূজো করে থাকি। এলাকাবাসীর কাছে এই কালীপূজো মিলন মেলায় পরিণত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উর্ধে উঠে আমরা সকল জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিচারে এই পুজোতে অংশগ্রহন করে থাকি। এবারে দেবীর প্রতিমা তৈরি করেছে কুশকারী এলাকার মৃৎশিল্পী। ভক্তদের দেওয়া কয়েক ভরি সোনা ও রুপার অলংকার পরিধান করে দেবীর পূজো হবে। এবারের বিশেষত্ব দেবীর হাতে ১৫ কেজির কদমা দেওয়ায় হচ্ছে। ১৫ দিন ধরে অন্ন ভোগ দিয়ে দেবীর পূজো হবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা চলবে। ভক্তেরা বাতাসা ও মিষ্টান্ন ভোগ দিয়ে এই কয়েক দিন পূজো দিয়ে থাকে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here