নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তর দিনাজপুর: প্রায় ১০০ বছর আগে এস.পি কে নিজের হাতে লেখা ডি.আই.জির চিঠি, তৎকালীন বঙ্গপ্রদেশে থাকা ইটাহার থানার খতিয়ানের আসল নথি, ১৯২৫ সালে ইম্পেরিয়াল পুলিশ দ্বারা প্রকাশিত বঙ্গ প্রদেশের ডাকাত দলের ইতিবৃত্ত নিয়ে ছাপানো বই৷ নকশাল আমলের নামীদামী নকশালদের বিবরণ, তখনকার সময়ে হাতে লেখা জরুরী ফাইল৷ এই সববকিছুই আছে তার সংগ্রহে। তিনি হলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার ওসি অভিজিৎ দত্ত। ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়া ইতিহাস প্রেমী এই মানুষটি আজও ইতিহাসের প্রেমে মজে আছেন। আর ইতিহাসের প্রতি তার ভালোবাসাই আজ তার সংগ্রহে এনে দিয়েছে প্রাচীন দুষ্পাপ্য সব নথি৷

অভিজিত বাবুর একটাই নেশা সেটা হল ইতিহাস। ১৩ বছরের চাকুরীতে যে কোনও থানায় বদলি হয়ে আসলেই সবার আগে তিনি খোজ নেন থানার পুরানো নথির। যা ডাস্টবিনে জমানো হচ্ছে আগামীতে সযত্নে নষ্ট করার উদ্দেশ্য। কাজের অবসরে সেইসব ডাস্টবিন ঘেঁটে প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। ধীরে ধীরে তার সংগ্রহ প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য সব সম্ভারে ভরে উঠেছে। ১৯২০ সাল থেকে ১৯৭২ সালের পুরাতন সব দুষ্প্রাপ্য নথি হয়েছে তার কাছে। আছে ১৯৩০ সালের পুলিশের আইনে সংযোজনী বই। তার কাছে থাকা ১৯২৫ সালে ইম্পেরিয়াল পুলিশের দারা প্রকাশিত বই “দ্য লিস্ট অফ এ্যক্টিভ ডকোইত গ্যাং ইন বেঙ্গল”।

এই বইটিতে ১৯২০ সাল থেকে ১৯২৫ সালে বই প্রকাশিত হওয়ার সময় পর্যন্ত তৎকালীন বঙ্গ প্রদেশ অর্থাৎ এপার বাংলা, ওপার বাংলা, ত্রিপুরা সব মিলিয়ে বঙ্গ প্রদেশে কতগুলো সক্রিয় ডাকাতদল ছিল, দলের কোন দলে কতজন সদস্য ছিল, তাদের কার্যকলাপে কি কি ধরনের বিশেষ বিশেষ জিনিষ দেখা যেত সব নোট সমেত ছাপানো বই। যে বইয়ের একপাতা ছাপা আর ঠিক তার পরের পাতা সাদা অর্থাৎ সেইসব ডাকাতদল সম্পর্কে তৎকালীন পুলিশ বাহিনী যাতে নিজেদের হাতে আপডেট নোট লিপিবদ্ধ করতে পারেন সেই যায়গা। এই ধরনের ৩০/৩২ টি বই জমেছে অভিজিৎ দত্তের সংগ্রহশালায়৷ ইতিহাস প্রেমী অভিজিৎ বাবুর ইচ্ছে এইসব দুষ্প্রাপ্য নথি, বই সব সংগ্রহিত হোক কোনও যায়গায়, বর্তমান প্রজন্ম উপকৃত হোক এইসব দুষ্প্রাপ্য নথি, বই পড়ে। আমাদের দেশের ইতিহাস জানুক সাধারন মানুষ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here