গ্রামবাসীদের তৎপরতায় ফাঁস মধুচক্রের আসর, সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ আটক ৩

0
64

নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি থানার খাগড়াকুড়ি এলাকার একটি বাগানবাড়িতে বসা মধুচক্রের আসর থেকে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ ৩জনকে আটক করে তাদের পুলিসের হাতে তুলে দিল স্থানীয় গ্রামবাসীরা। কুশমণ্ডি থানার পুলিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই তিনজনই কুশমণ্ডি থানা এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে মহম্মদ আজিজ(২৭) ইসনাইল এলাকার বাসিন্দা, রবিউল ইসলাম(২৮) পানিশালা এলাকার বাসিন্দা এবং ঝর্ণা সরকার(৪৬) নামে এক মহিলার বাড়ি উখলিয়া কলোনী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশমণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের খাগড়াকুড়ি এলাকায় ওই বাগানবাড়িতে প্রায়শই রাতে ও দিনে পিকনিকের আসর বসতো। আবার ওই বাগানবাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই রয়েছে একটি বেসরকারি কলেজ। তার জেরে বহিরাগত যুবকরা ওই বাগানবাড়িতে এসে মদ্যপান করার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশমণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ওম ঝার পরিত্যাক্ত এই বাগানবাড়িতে নানা অসামাজিক কাজকর্ম চলতো। মঙ্গলবার রাতে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে সকলে মিলে এসে বাগানবাড়িতে হানা দেয়। ঘটনাস্থল থেকে আপত্তিকর অবস্থায় দুইজন যুবক ও একজন মধ্য বয়সী মহিলাকে হাতেনাতে ধরেন গ্রামবাসীরা। তবে অপর দুইজন পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীরা ওই তিনজনকে কুশমণ্ডি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। বুধবার এই ঘটনার জেরে গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় থানায়। ধৃত ৩জনকে এদিন গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহম্মদ আজিজ এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। অপরদিকে রবিউল ইসলাম সিভিক ভলেন্টিয়ার্সের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল কুশমণ্ডি থানা এলাকায়।

কুশমণ্ডি থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা বলেন, ‘খাগড়াকুড়ি এলাকার বাসিন্দারা মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তদের আটক করে আমাদের হাতে তুলে দেন। ওখানে যে মধুচক্র চলছিল তার যথেষ্ট প্রমান আমরা পেয়েছি। গ্রেপ্তার করা মহিলাও তা স্বীকার করেছেন। আমরা দুইজন যুবককে গ্রেপ্তার করেছি। তার মধ্যে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছে। এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে তদন্ত করা হচ্ছে। বাড়িটি আমরা সিল করে দিয়েছি।’

কুশমণ্ডির যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি অম্বরীষ সরকার বলেন, ‘কোনও ভাবেই এই ধরনের অন্যায় কাজ আমরা বরদাস্ত করি না। আমাদের কোনও কর্মী অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে না। আমাদের কোনও তৃণমূল কর্মী মধুচক্রের সঙ্গে যুক্ত নয়। এলাকার অনেকেই তৃণমূল সমর্থক হতে পারে। কিন্তু তার মানেই এই নয় যে সে তৃণমূল কর্মী। বিজেপি অপপ্রচার করছে এলাকায়। আমরা প্রশাসনকে বলেছি দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

kolkata bengali newsতৃণমূলের উপপ্রধান ওম ঝা বলেন, ‘আমি জানতাম কিছু যুবক ওখানে পিকনিক করে। অন্যায় ভাবে আমার পরিত্যাক্ত বাড়ি ব্যবহার করে। আমি এবিষয়ে একাধিকবার পুলিসকে জানিয়েছি। আমি বর্তমানে এলাহাবাদে রয়েছি। এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। আমি ফিরে লিখিত অভিযোগ করবো থানায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here