নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা: আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে প্রথমে ইলেকট্রিক ইস্ত্রীর ছেঁকা আর তার পরে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল তার স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূ দুর্ঘটনাবশত কুপির আগুনে পূড়ে মৃত্যু হয়েছ বলে সাজানর চেষ্টা করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। যদিও মৃতার বাবা নুরুল ইসলাম ও দাদা আফজাল আনসারী জানান, মৃত ওই গৃহবধূর জাহেরা বিবির প্রায় সাত বছর আগে গাজোলের সাহাজাতপুর অঞ্চলের শিলনাগরা এলাকার হরমুজ আনসারীর ছেলে সাদিকুল আনসারীর সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের একবছর কাটতে না কাটতেই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। সেই সময় সালিশির মাধ্যমে অশান্তির সমাধান করতে চাইলে অস্বীকার করে ছেলের পরিবার।

জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে জাহেরা বিবির মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে যান নুরুল ইসলাম ও আফজাল আনসারী। গিয়ে তারা দেখতে পান জাহেরা মাটিতে পড়ে রয়েছে। এরপরই তারা সাদিকুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা জানায় জাহেরা সাদিকুলের জামা ইস্ত্রি করার সময় বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কুপির আগুনে পুড়ে মারা যায়। কিন্তু সাদিকুলের কথায় অসঙ্গতি পেয়ে জাহেরা বিবির বাবা আর দাদা গাজোল থানার দ্বারস্থ হয়। খবর পেয়ে গাজোল থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। জেহারার বাবা নুরুল ইসলাম ও দাদা আফজাল আনসারীর অভিযোগ, কুপির আগুনে এই ভাবে দগ্ধ হতে পারেনা জাহেরা। তাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। এদিন তারা ঘটনার জেরে সাদিকুল ছাড়াও তার বাবা হরমুজ আনসারী ও তার মা সুরতনা বিবির নামে গাজোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ মৃতার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে সাদিকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বাবা-মা অবশ্য গা ঢাকা দিয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here