kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়গঞ্জ: বিয়ের সময় মেটানো হয়েছিল পণের যাবতীয় টাকা৷ তারপরেও বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হত গৃহবধূকে৷ টাকা আনতে না পারলে চলত লাগাতার অত্যাচার৷ বিয়ের দশ মাসের মাথায় গৃহবধূকে খুন করার কাঠগড়ায় স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ি লোকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াগঞ্জ থানারহাট এলাকায়। মৃত ওই গৃহবধূর নাম শীতলা পাল। মৃত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে কালিয়াগঞ্জ থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াগঞ্জ থানারহাট এলাকায় বাসিন্দা গৌরাঙ্গ পালের সঙ্গে ১০ মাস আগে বিয়ে হয় ইটাহার থানার শীতলা পালের। বিয়ের দু-তিন মাস পর থেকে শীতলার ওপর শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার চালাত স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যরা। প্রায়ই শীতলাকে তার বাপের বাড়ির থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হত। বাপের বাড়ির থেকে টাকা না আনলে তাকে একাধিকবার অত্যাচারিত হতে হয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের হাতে। রবিবার শীতলাকে বাপের বাড়ির থেকে টাকা আনতে বলা হয়৷ সে রাজী না হওয়ায় স্বামী সহ তার শ্বশুরবাড়ি লোকেরা তাকে মারধর করে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ।

শীতলার পরিবারের লোকদের খবর দেওয়া হয়। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে কুনোর হাসপাতালে ছুটে আসে তার বাপের বাড়ির লোকেরা। হাসপাতালে শীতলার বাবা রঞ্জিত পাল এসে দেখেন মেয়ের গলায় ফাঁসের দাগ। তার অভিযোগ, মেয়েকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করেছে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ি সদস্যরা। বিয়েতে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সব দাবি দাওয়াই মেটানো হয়েছে। মেয়েকে যারা খুন করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানিয়েছেন মৃত গৃহবধূর বাবা রঞ্জিতবাবু। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেফতার করে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here