ডেস্ক: মাস তিনেক আগে রাস্তায় নিজের অজান্তে হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল মোবাইল ফোন। নিজে রাস্তায় পরে অনেক খুঁজেও তা ার পাননি। তখন থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। নিজে মেয়েদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন। কর্মসুত্রে স্বামী থাকেন ভিন রাজ্যে। পরের দিনই অবশ্য মোবাইল ফেরত পেয়েছিলেন। এলাকার চার ছেলে নিজেরা বাড়ি বয়ে এসে সেই মোবাইল ফেরত দিয়ে গেছিল। হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন ওই গৃহবধূ। খালি বুঝতে পারেননি বাড়ি বয়ে এসে মোবাইল দিয়ে যাওয়ার অছিলায় আসলে মোবাইলের মালকিনকেই চিনতে চাইছিল চার শয়তান।

মোবাইল ফেরত দেবার পরের দিনই দিন থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। গৃহবধূর মোবাইলে থাকা তার চরম ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি ততক্ষণে সেই চার শয়তান মুঠোয়। গৃহবধূকে ফোন করে সেই ছবির বিষয় তুলে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিল চার শয়তান, ঘনিষ্ঠ হতে হবে। শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে খুশি করতে হবে চারজনকে। না হলেই ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর ইউটিউবে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি দুই মেয়ের মা ওই গৃহবধূ। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি চারজন। প্রতিদিন নিয়ম করে ফোন করে শুরু হয়েছিল ব্ল্যাকমেলিং করা। লজ্জায় ঘটনার কথা কাউকে জানাতেও পারেননি ওই মহিলা।

এক সময় প্রস্তাব এসেছিল একটা নিরাভরণ ছবি তাদের পাঠালে তারা আগেকার সব ছবি ডিলিট করে দেবে। গৃহবধূ ভেবেছিলেন সেটাই সত্যি। তাই নিজের নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিলেন তাদের কাছে। ভেবেছিলেন মুক্তি মিলবে। কিন্তু সে মুক্তি তাঁকে খুঁজে নিতে হল নিজের জীবন শেষ করেই। কিছুদিন আগেই ওই গৃহবধূ জানতে পারেন আগেকার ছবি তো ডিলিট হয়নি উল্টে সব ছবিই চলে গেছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর ইউটিউবে। এমনকি গ্রামের রাস্তায় তা প্রিন্টেড ছবি হিসাবে ছড়িয়ে দেওয়াও হয়। শনিবার সব কিছু চিঠিতে লিখে ভাইকে সব জানিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই গৃহবধূ।

সেই চিঠির ভিত্তিতেই রবিবার ওই মহিলার ভাই স্থানীয় থানায় চার যুবকের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ পেয়ে রবিবারই পুলিশ চার গুনধরকে গ্রেফতার করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া মহকুমার চন্ডিপুর থানার হরিচক গ্রামের ওই ঘটনায় পুলিশ গ্রামেরই চার যুবক সৌরভ সামন্ত, চন্দন গুছাইত, সুপ্রভাত গঁড়াই ও সায়ন মান্নাকে গ্রেফতার করেছে। এদিনই তাদের তমলুক জেলা আদালতের তোলা হলে বিচারক চারজনকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here