মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচের মধ্যে থাকবে গ্যারি কার্স্টেনের নাম। ২০০৯ সালে তাঁর কোচিংয়ে ভারত টেস্টে এক নম্বর দল হিসেবে নিজেদের মেলে ধরে। আর ঠিক দু’বছর পরেই দেশকে বিশ্বকাপ জেতান।

ভাবলে অবাক হতে হবে যে, ভারতকে কোচিং করানোর জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ওপেনার। কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি মুম্বইতে এসে অনিল কুম্বলেদের কোচ হওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে যান। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই চুক্তিপত্র নিয়ে ইন্টারভিউ রুম ছাড়েন। আর এসব অজানা গল্প কার্স্টেন নিজেই শোনালেন ‘ক্রিকেট কালেক্টিভ’ পডকাস্টে এসে।

কার্স্টেনের না ছিল কোনও কোচিং ডিগ্রি, না তিনি ভারতকে কোচিং করাতে ছিলেন আগ্রহী। ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ বলছেন, “আমি ভারতের কোচ হতে চাই কিনা জানতে চেয়ে আমাকে গাভাস্কর মেল করেন। মেলটা ভুয়ো মনে হওয়ায় কোনও উত্তর দিইনি আমি। পরে গাভাস্কর আমাকে আরও একটা মেল পাঠান। জানতে চান ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য আমি ভারতে আসছি কি না। আমি স্ত্রীকে এই মেইলগুলো দেখাই। ও বলল, ওরা হয়তো ভুল লোককে পাঠিয়েছে।’’

ইন্টারভিউয়ের প্রসঙ্গে কার্স্টেন বলছেন, যে তাঁকে বিসিসিআই সচিব ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রেজেন্টেশন রাখতে বলেন। সেই প্রসঙ্গে কার্স্টেন বলছেন, “বোর্ড সচিবের প্রশ্ন শুনে আমি বলেছিলাম, আমাকে তো কেউ কিছু তৈরি করতে বলেননি।”
সেই সময় নির্বাচক প্যানেলে ছিলেন ভারতের বতর্মান কোচ রবি শাস্ত্রী। তিনি ইন্টারভিউয়ের গুরুগম্ভীর পরিবেশটা হালকা করতে কার্স্টেনের কাছে জানতে চান, “ভারতকে হারানোর জন্য তোমরা কী করতে?” এই প্রশ্নের জবাব প্রায় দু’তিন মিনিট ধরে দিয়েছিলেন কার্স্টেন। কিন্তু তিনি তাঁদের স্ট্র্যাটেজির কথা খোলসা করেননি। কার্স্টেনের উত্তর দেওয়ার ভঙ্গিতে ইন্টারভিউ বোর্ডের সকলে খুশি হয়েছিলেন।

এতদূর পর্যন্ত সবটা ঠিকই ছিল। কিন্তু তারপরেই এক কাণ্ড ঘটে। কার্স্টেন জানান যে, মাত্র সাত মিনিটে তিনি কোচ হিসেবে মনোনীত হন ঠিকই। কিন্তু এরপর তাঁকে যে, চুক্তিপত্র দেওয়া হয় তার প্রথম পাতায় লেখা ছিল আগের প্রাক্তন গ্রেগ চ্যাপেলের নাম। কার্স্টেন সঙ্গে সঙ্গে সেই চুক্তিপত্র ফিরিয়ে দেন। এরপর বোর্ড সচিব পেন দিয়ে চ্যাপেলের নাম কেটে কার্স্টেনের নাম বসান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here